ঢাকা ০৮:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্ব চলচ্চিত্রের মিলনমেলায় ঢাকা: ৯১ দেশের ২৪৫ ছবি নিয়ে পর্দা উঠলো ২৪তম আন্তর্জাতিক উৎসবের

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় পর্দা উঠলো ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (ডিআইএফএফ)। রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে দেশি-বিদেশি চলচ্চিত্র নির্মাতা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সরব উপস্থিতিতে এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়, যা বিশ্ব চলচ্চিত্রের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

উদ্বোধনী দিনের আয়োজনে মূল অডিটোরিয়ামে উৎসবের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হয় চেন শিয়াং পরিচালিত চীনা ছবি ‘উ জিন ঝি লু’। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানকে তুলে ধরতে জাতীয় জাদুঘরে চীনা চলচ্চিত্র বিষয়ক একটি বিশেষ প্রদর্শনী কর্নারও উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া, জলতরঙ্গ থিয়েটার কোম্পানি’র একটি মনোমুগ্ধকর থিয়েট্রিক্যাল পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল উৎসবের মূল দর্শন তুলে ধরে বলেন, ‘ভালো সিনেমা, ভালো দর্শক, ভালো সমাজ।’ বাংলাদেশে নিযুক্ত গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের কালচার কাউন্সিলর লিই শাওপেং এই আয়োজনকে ‘চীনা চলচ্চিত্র সপ্তাহ’ হিসেবে উল্লেখ করে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি চলচ্চিত্রকে বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

ক্রোয়েশিয়া–যুক্তরাজ্যভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাতা আলেকজান্দ্রা মার্কোভিচ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গল্প বলার সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের প্রশংসা করেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন; পানি সম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতে চলচ্চিত্রের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্র বিশ্বব্যাপী চাপ, হতাশা ও সামাজিক উত্তেজনার মতো বিষয় মোকাবিলায় সাংস্কৃতিকভাবে মানুষকে যুক্ত করে এবং মূল্যবোধ, জ্ঞান ও সংস্কৃতি ভাগাভাগি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’

১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলা এই উৎসবে বিশ্বের ৯১টি দেশ থেকে আগত মোট ২৪৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। স্বাধীন, আন্তর্জাতিক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে এই উৎসব চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৃজনশীলতা, সাংস্কৃতিক ভাবনা, সামাজিক সংকট ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। একই সঙ্গে এটি দর্শকদের জন্য বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ও জীবনধারা জানার এক অসাধারণ সুযোগও তৈরি করে।

ঢাকা ও কক্সবাজারের একাধিক ভেন্যুতে উৎসবের চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে- আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, থ্রিডি আর্ট গ্যালারী, ভিনটেজ কনভেনশন হল এবং কক্সবাজারের লাবণী সৈকত। চলচ্চিত্র নির্মাতা, বিশিষ্ট অতিথি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সরব উপস্থিতিতে এক উষ্ণ ও প্রাণবন্ত পরিবেশে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। আগামী আট দিন চলচ্চিত্রপ্রেমীরা বুঁদ হয়ে থাকবেন বিশ্ব চলচ্চিত্রের বৈচিত্র্যময় আয়োজনে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণহত্যার বিচার হবে আপসহীন, বিশেষ ট্রাইব্যুনালের দাবি শিক্ষার্থীদের: প্রসিকিউটর তামীম

বিশ্ব চলচ্চিত্রের মিলনমেলায় ঢাকা: ৯১ দেশের ২৪৫ ছবি নিয়ে পর্দা উঠলো ২৪তম আন্তর্জাতিক উৎসবের

আপডেট সময় : ০৯:৩৯:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় পর্দা উঠলো ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (ডিআইএফএফ)। রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে দেশি-বিদেশি চলচ্চিত্র নির্মাতা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সরব উপস্থিতিতে এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়, যা বিশ্ব চলচ্চিত্রের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

উদ্বোধনী দিনের আয়োজনে মূল অডিটোরিয়ামে উৎসবের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হয় চেন শিয়াং পরিচালিত চীনা ছবি ‘উ জিন ঝি লু’। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানকে তুলে ধরতে জাতীয় জাদুঘরে চীনা চলচ্চিত্র বিষয়ক একটি বিশেষ প্রদর্শনী কর্নারও উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া, জলতরঙ্গ থিয়েটার কোম্পানি’র একটি মনোমুগ্ধকর থিয়েট্রিক্যাল পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল উৎসবের মূল দর্শন তুলে ধরে বলেন, ‘ভালো সিনেমা, ভালো দর্শক, ভালো সমাজ।’ বাংলাদেশে নিযুক্ত গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের কালচার কাউন্সিলর লিই শাওপেং এই আয়োজনকে ‘চীনা চলচ্চিত্র সপ্তাহ’ হিসেবে উল্লেখ করে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি চলচ্চিত্রকে বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

ক্রোয়েশিয়া–যুক্তরাজ্যভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাতা আলেকজান্দ্রা মার্কোভিচ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গল্প বলার সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের প্রশংসা করেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন; পানি সম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতে চলচ্চিত্রের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্র বিশ্বব্যাপী চাপ, হতাশা ও সামাজিক উত্তেজনার মতো বিষয় মোকাবিলায় সাংস্কৃতিকভাবে মানুষকে যুক্ত করে এবং মূল্যবোধ, জ্ঞান ও সংস্কৃতি ভাগাভাগি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’

১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলা এই উৎসবে বিশ্বের ৯১টি দেশ থেকে আগত মোট ২৪৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। স্বাধীন, আন্তর্জাতিক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে এই উৎসব চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৃজনশীলতা, সাংস্কৃতিক ভাবনা, সামাজিক সংকট ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। একই সঙ্গে এটি দর্শকদের জন্য বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ও জীবনধারা জানার এক অসাধারণ সুযোগও তৈরি করে।

ঢাকা ও কক্সবাজারের একাধিক ভেন্যুতে উৎসবের চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে- আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, থ্রিডি আর্ট গ্যালারী, ভিনটেজ কনভেনশন হল এবং কক্সবাজারের লাবণী সৈকত। চলচ্চিত্র নির্মাতা, বিশিষ্ট অতিথি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সরব উপস্থিতিতে এক উষ্ণ ও প্রাণবন্ত পরিবেশে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। আগামী আট দিন চলচ্চিত্রপ্রেমীরা বুঁদ হয়ে থাকবেন বিশ্ব চলচ্চিত্রের বৈচিত্র্যময় আয়োজনে।