আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ঘটে যাওয়া গণহত্যার বিচারে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। এটি শতাব্দীতে একবার ঘটা এক ঐতিহাসিক ঘটনা এবং এর অপব্যবহার হলে জাতি দায়ী থাকবে। সোমবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন দফা দাবি উপস্থাপনের পর তিনি এই মন্তব্য করেন। শিক্ষার্থীরা জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে একটি বিশেষ তদন্ত টিম ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানিয়েছে।
প্রসিকিউটর তামীম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “জুলাই গণহত্যার বিচারে আমরা কেউই কোনো ক্ষেত্রে আপস করবো না। করার কোনো সুযোগও নেই। কারণ ২০২৪ সালের জুলাইয়ে একটা জুলাই বিপ্লব হয়েছে। এটা যুগে যুগে নয়, শতাব্দীতে এক-দুবার হয়। বাংলাদেশে ৫৪ বছর পর আবার নতুন করে পুনর্নির্মাণ করার একটা সুযোগ আমাদের দিয়ে গেছেন ১৪০০ শহীদ। তাই এর অপব্যবহার করলে আমরা দায়ী থেকে যাবো।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রসিকিউশনের কাছে যে তিন দফা দাবি জানিয়েছে, সেগুলো হলো:
১. আগস্টের মামলায় কোনো অপরাধী যেন জামিন, অব্যাহতি বা খালাস না পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
২. জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডে যারা সহায়তা করেছে, সেই সকল ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে প্রসিকিউশনের বিচারিক ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে।
৩. সারাদেশে জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্ত টিম ও স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের বিশেষ তদন্ত টিম ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি প্রসঙ্গে গাজী তামীম বলেন, এটি সরকারের দায়িত্ব। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই দাবি শিগগিরই সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে এবং সরকার দ্রুতই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জুলাই হত্যাকাণ্ডে সহায়তাকারী ব্যবসায়ী ও সংস্কৃতিকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়ে তামীম বলেন, “তারা আমাদের কাছে অভিযোগ নিয়ে আসুক। আমরা অতি দ্রুত এ অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত শুরু করে একটা অগ্রগতির দিকে নিয়ে যাবো। তাদের বিচার শুরু করতে পারবো বলে আমরা আশা পোষণ করছি।”
গত ১১ জানুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবির পাটোয়ারীকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ জামিন মঞ্জুর করা হয়। এই জামিনের প্রতিবাদেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ট্রাইব্যুনালের কাছে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরে।
জামিন প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর তামীম ব্যাখ্যা করে বলেন, পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের দেড় বছরে এই প্রথম একজন আসামিকে আদালত জামিন দিয়েছেন। তিনি জানান, দেশের অন্যান্য আইনের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনেও জামিনের বিধান আছে। সাধারণত দুটি কারণে জামিন দেওয়া হয় – যদি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকে অথবা মানবিক কারণে। হুমায়ুন কবির পাটোয়ারীর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মানবিক কারণে জামিন দেওয়া হয়েছে।
তামীম আরও জানান, এই আসামি আগেও দুবার জামিন চেয়ে নামঞ্জুর হয়েছিলেন। তৃতীয়বার কারা কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতালকে তার স্বাস্থ্য প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসামি বেশ কিছু জটিল রোগে আক্রান্ত। এই বিষয়টি বিবেচনা করেই ট্রাইব্যুনাল মানবিক কারণে জামিন দিতে চাইলে প্রসিকিউশন কিছু শর্ত আরোপের প্রার্থনা করে। আদালত সেই শর্তগুলো আরোপ করে তার জামিন মঞ্জুর করেন।
রিপোর্টারের নাম 

























