ঢাকা ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

হলফনামায় নেতাদের আয়-ব্যয়: সাদাসিধে জীবনের আড়ালে শুভঙ্করের ফাঁকি?

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের হলফনামায় দেওয়া আয় ও সম্পদের বিবরণী এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশ করা এই তথ্যে দেখা যাচ্ছে, দেশের শীর্ষ সারির অনেক নেতার মাসিক আয় একজন সাধারণ চাকুরিজীবীর চেয়েও কম। হলফনামা অনুযায়ী, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের বার্ষিক আয় মাত্র ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা অর্থাৎ মাসে ৩০ হাজার টাকা। একইভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মাসিক আয় দেখানো হয়েছে ৫৬ হাজার টাকার কিছু বেশি। জীবনযাত্রার ব্যয় যখন আকাশচুম্বী, তখন দেশের শীর্ষ রাজনীতিবিদদের এমন ‘স্বল্প আয়ের’ তথ্যে জনমনে কৌতূহল ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৫টি রাজনৈতিক দলের ১০ শীর্ষ নেতার মধ্যে সাতজনেরই মাসিক আয় এক লাখ টাকার নিচে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের বার্ষিক আয় ৪ লাখ টাকা এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের মাসে আয় ৩৯ হাজার টাকা। অন্যদিকে, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা। তবে ব্যতিক্রমও আছে; জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারি বার্ষিক ৩৩ লাখ টাকা আয় এবং ৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকার সম্পদ নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সম্পদ ৪ কোটি ৫ লাখ টাকা হলেও তাঁর মাসিক আয় প্রায় এক লাখ টাকা।

প্রার্থীদের এই আয়ের হিসাব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তুমুল বিশ্লেষণ। প্রশ্ন উঠছে, মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা আয় করে রাজধানীর বসুন্ধরার মতো অভিজাত এলাকায় বসবাস করা কীভাবে সম্ভব? সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য মিলেছে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের জামায়াত প্রার্থী রমজান আলীর ক্ষেত্রে, যাঁর মাসিক আয় মাত্র ১ হাজার ২৫০ টাকা। ভোটাররা প্রশ্ন তুলছেন, যে প্রার্থী নিজের সংসার চালানোর ন্যূনতম যোগ্যতা রাখেন না, তিনি সংসদ সদস্য হয়ে জনসেবা করবেন কীভাবে? নাকি এই স্বল্প আয়ের আড়ালে বড় কোনো ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ রয়েছে, যা নির্বাচনের পর জনগণের তহবিলে হাত দেওয়ার পথ প্রশস্ত করবে—এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামের সম্পদের বৃদ্ধিও আলোচনায় এসেছে। উপদেষ্টা পদ ছাড়ার সময় তাঁর ব্যাংক ব্যালেন্স ১০ হাজার টাকা থাকলেও বর্তমানে তা ৩২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ভারতের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা বামপন্থী নেতাদের ত্যাগের রাজনীতির উদাহরণের বিপরীতে বাংলাদেশের নেতাদের এই বৈপরীত্য ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ভূমিকা রাখবে। রাজকীয় চালচলন আর হলফনামার ‘দরিদ্র’ হিসাবের এই দূরত্ব ঘুচিয়ে ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কাদের যোগ্য মনে করবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বিপিএল মহারণ: আজ সিলেট-রংপুর, ঢাকা-রাজশাহী; টিভিতে কখন দেখবেন?

হলফনামায় নেতাদের আয়-ব্যয়: সাদাসিধে জীবনের আড়ালে শুভঙ্করের ফাঁকি?

আপডেট সময় : ০১:০০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের হলফনামায় দেওয়া আয় ও সম্পদের বিবরণী এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশ করা এই তথ্যে দেখা যাচ্ছে, দেশের শীর্ষ সারির অনেক নেতার মাসিক আয় একজন সাধারণ চাকুরিজীবীর চেয়েও কম। হলফনামা অনুযায়ী, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের বার্ষিক আয় মাত্র ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা অর্থাৎ মাসে ৩০ হাজার টাকা। একইভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মাসিক আয় দেখানো হয়েছে ৫৬ হাজার টাকার কিছু বেশি। জীবনযাত্রার ব্যয় যখন আকাশচুম্বী, তখন দেশের শীর্ষ রাজনীতিবিদদের এমন ‘স্বল্প আয়ের’ তথ্যে জনমনে কৌতূহল ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৫টি রাজনৈতিক দলের ১০ শীর্ষ নেতার মধ্যে সাতজনেরই মাসিক আয় এক লাখ টাকার নিচে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের বার্ষিক আয় ৪ লাখ টাকা এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের মাসে আয় ৩৯ হাজার টাকা। অন্যদিকে, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা। তবে ব্যতিক্রমও আছে; জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারি বার্ষিক ৩৩ লাখ টাকা আয় এবং ৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকার সম্পদ নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সম্পদ ৪ কোটি ৫ লাখ টাকা হলেও তাঁর মাসিক আয় প্রায় এক লাখ টাকা।

প্রার্থীদের এই আয়ের হিসাব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তুমুল বিশ্লেষণ। প্রশ্ন উঠছে, মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা আয় করে রাজধানীর বসুন্ধরার মতো অভিজাত এলাকায় বসবাস করা কীভাবে সম্ভব? সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য মিলেছে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের জামায়াত প্রার্থী রমজান আলীর ক্ষেত্রে, যাঁর মাসিক আয় মাত্র ১ হাজার ২৫০ টাকা। ভোটাররা প্রশ্ন তুলছেন, যে প্রার্থী নিজের সংসার চালানোর ন্যূনতম যোগ্যতা রাখেন না, তিনি সংসদ সদস্য হয়ে জনসেবা করবেন কীভাবে? নাকি এই স্বল্প আয়ের আড়ালে বড় কোনো ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ রয়েছে, যা নির্বাচনের পর জনগণের তহবিলে হাত দেওয়ার পথ প্রশস্ত করবে—এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামের সম্পদের বৃদ্ধিও আলোচনায় এসেছে। উপদেষ্টা পদ ছাড়ার সময় তাঁর ব্যাংক ব্যালেন্স ১০ হাজার টাকা থাকলেও বর্তমানে তা ৩২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ভারতের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা বামপন্থী নেতাদের ত্যাগের রাজনীতির উদাহরণের বিপরীতে বাংলাদেশের নেতাদের এই বৈপরীত্য ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ভূমিকা রাখবে। রাজকীয় চালচলন আর হলফনামার ‘দরিদ্র’ হিসাবের এই দূরত্ব ঘুচিয়ে ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কাদের যোগ্য মনে করবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।