জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ভোট গণনা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে স্থগিত করা হয়েছে। অপটিক্যাল মার্ক রিকগনিশন (ওএমআর) মেশিনে সমস্যা দেখা দেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ভোট গণনা স্থগিত রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে উপাচার্য, নির্বাচন কমিশন এবং ভিপি ও জিএস পদপ্রার্থীদের নিয়ে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের পর পরবর্তী পদক্ষেপ জানানো হবে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল ৩টায় শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা ৪টার পরও চলে। নির্ধারিত সময়ের পরেও লাইনে থাকা শিক্ষার্থীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর সকল ব্যালট বাক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আনা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ছয়টি ওএমআর মেশিনে কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট গণনা শুরু হয়। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন মেশিনগুলোতে কারিগরি সমস্যার কথা জানায়। ফলে শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই গণনা কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।
এর আগে সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ভোটাররা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল। জীবনে প্রথমবার শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন অনেক শিক্ষার্থী। সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সন্তুষ্টি জানান তারা।
এই নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদে ১৫৭ জন এবং একমাত্র ছাত্রী হলের সংসদের ১৩টি পদে ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ৩৪টি পদের বিপরীতে ১৯০ জন প্রার্থী এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। মোট ১৬ হাজার ৬৬৫ জন ভোটার এই নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। চারটি প্যানেল ছাড়াও বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ ভিপি পদে ১২ জন, জিএস পদে ৯ জন এবং এজিএস পদে ৮ জন প্রার্থী লড়েছেন।
উল্লেখযোগ্য যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ২১ বছর পর এই প্রথমবার জকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদে প্রায় ৬৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























