চলতি বছরের প্রথম ১১ মাসে দেশের শিশুদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে এক শিউরে ওঠার মতো চিত্র উঠে এসেছে ‘শিশু অধিকার পরিস্থিতি-২০২৫’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত ১ হাজার ৮৬৭টি নেতিবাচক সংবাদের ওপর ভিত্তি করে করা এই বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৬২.৬৬ শতাংশ ঘটনাই শিশু ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। যৌন সহিংসতা ও জীবনের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই চরম ঝুঁকি শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের ভয়াবহতাকেই নির্দেশ করছে। রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সচেতন সংস্থা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) ও স্ক্যান বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ২০২৫ সালে শিশুরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও কাঠামোগত দুর্বলতার শিকার হয়েছে, যেখানে এমনকি পারিবারিক পরিমণ্ডলেও তারা নিরাপদ নয়। শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মোছা. আরজু আরা বেগম এবং এমজেএফ-এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধে আইনের দ্রুত প্রয়োগ ও সামাজিক সচেতনতার ওপর জোর দিয়েছেন। বিশেষ করে প্রান্তিক অঞ্চলে শিশুদের জন্য মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা এবং মনোসামাজিক সহায়তার অভাবকে বড় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শিশুদের বিকাশে অস্থিরতা দূর করতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর কাজের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তাও অনুষ্ঠানে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে শিশু অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার রাখার জোর সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে রাজনৈতিক সহিংসতা থেকে শিশুদের দূরে রাখতে কঠোর আইন ও রাজনৈতিক সমঝোতা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি, অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























