অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা নতুন অধ্যাদেশের কারণে সাতটি নির্দিষ্ট আইনে মামলা করার আগে লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক হওয়ায় গত দুই মাসে (১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ নভেম্বর) ১২টি জেলায় নারীদের অভিযোগের স্তূপ জমেছে। মোট অভিযোগের প্রায় ৮৭ শতাংশই (৫,১২৫টি) পারিবারিক বিরোধ ও যৌতুক সংক্রান্ত।
আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারির মাধ্যমে এই বিধান কার্যকর হয়েছে। বর্তমানে ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, রংপুর, দিনাজপুর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, নোয়াখালী, রাঙামাটি, সিলেট, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ—এই ১২টি জেলায় সংশোধিত অধ্যাদেশ কার্যকর রয়েছে।
📊 অভিযোগের পরিসংখ্যান ও নিষ্পত্তি
জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার তথ্য অনুসারে, দুই মাসে সাতটি আইনের বিভিন্ন ধারায় মোট ৫,৯১৬টি অভিযোগ বা আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে মোট অভিযোগের ৫১ শতাংশ (৩,০৪১টি) নিষ্পত্তি হয়েছে।
| আইনের ধারা | অভিযোগের বিষয় | আবেদনের সংখ্যা |
| পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৫ | বিবাহবিচ্ছেদ, দেনমোহর, ভরণপোষণ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, শিশুসন্তানের অভিভাবকত্ব | ২,৬৫৬টি |
| যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩ ও ৪ | যৌতুক দাবি/প্রদান/গ্রহণ | ২,৪৬৯টি |
পারিবারিক ও যৌতুক সংক্রান্ত অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রেই মীমাংসার হার বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা লিটন দাশ। তিনি বলেন, প্রায় ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে আপস-মীমাংসা করা যাচ্ছে। মীমাংসা না হলে ভুক্তভোগীদের ‘মধ্যস্থতা ব্যর্থ সনদ’ দেওয়া হচ্ছে, যা দেখিয়ে তারা আদালতে মামলা করতে পারবেন।
🗣️ ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা
সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে দেনমোহর ও ভরণপোষণের আবেদন নিয়ে আসা আশাশুনি উপজেলার এক তরুণী জানান, তালাকের নোটিশ পাওয়ার পর তিনি এখানে এসেছেন। আবার তালা উপজেলার এক তরুণী যৌতুকের অভিযোগ নিয়ে মধ্যস্থতার আবেদন করার পর মীমাংসার মাধ্যমে তাঁর স্বামী তাঁকে সংসারে ফিরিয়ে নিয়েছেন।
তবে সাতক্ষীরা সদরের এক নারী স্বামীর বিরুদ্ধে ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ এনে সফল মীমাংসার পরেও স্বামীর প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
📅 আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ শুরু
এই প্রেক্ষাপটের মধ্যে আজ ২৫ নভেম্বর (মঙ্গলবার) থেকে শুরু হচ্ছে জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ, যা ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হবে।
⚖️ আইন বিশ্লেষকদের মত
আইন বিশ্লেষক ও সাবেক জেলা জজ ফউজুল আজিম মনে করেন, যদি অর্ধেক সংখ্যক মামলাই নিষ্পত্তি না হয়ে থাকে, তাহলে লিগ্যাল এইডের এই উদ্যোগকে খুব কার্যকর বলা যাচ্ছে না, কারণ একই রকম চিত্র আগে পারিবারিক আদালতে ছিল। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, মামলার চাপ বাড়লে তা সামাল দেওয়ার জন্য লিগ্যাল এইডের দক্ষতা ও প্রস্তুতি নেই, তাই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দক্ষ মধ্যস্থতাকারী প্রস্তুত করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা লিটন দাশ মনে করেন, মামলার আগে মধ্যস্থতার এই প্রক্রিয়া খুব জরুরি, তবে এই ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য লিগ্যাল এইড অফিসে জনবল বাড়ানো প্রয়োজন।
রিপোর্টারের নাম 

























