ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

এই শীতে ছাদবাগানের যত্নে…

শীত মানেই আরাম, মানুষের জন্য। কিন্তু ছাদবাগানের গাছের কাছে এই সময়টা বেশ চ্যালেঞ্জের। কুয়াশা, ঠান্ডা বাতাস আর সূর্যের স্বল্পতায় অনেক গাছই ঝিমিয়ে পড়ে। একটু অসতর্ক হলেই পাতার রং বদলায়, বৃদ্ধি থেমে যায়, এমনকি গাছ শুকিয়েও যেতে পারে। তাই শীতে ছাদবাগান সবুজ রাখতে চাইলে দরকার আলাদা যত্নের পরিকল্পনা।

পানি দেওয়ায় সংযম

শীতে গাছের পানির চাহিদা কমে যায়। অতিরিক্ত জল দিলে টবের মাটি ভিজে থাকে দীর্ঘক্ষণ, ফলে শিকড় পচে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

সপ্তাহে ২–৩ দিন দিলেই যথেষ্ট। সকালে দেওয়াই সবচেয়ে ভালো। টবের নিচে পানি জমে থাকছে কি না, নজর রাখা জরুরি। রোদ যেন পায় ঠিকঠাক, কারণ শীতে সূর্যের আলো তুলনামূলক দুর্বল থাকে।

দিনে অন্তত ৪–৫ ঘণ্টা রোদ পাওয়া জায়গায় টব রাখুন। ছায়াপ্রিয় গাছ আলাদা রাখুন। প্রয়োজনে টবের অবস্থান বদলান।

মাটির যত্ন ও সার

এই সময়ে গাছ খুব দ্রুত বাড়ে না, তাই ভারী সার দেওয়ার দরকার নেই। মাসে একবার জৈব সার (কম্পোস্ট/ভার্মি কম্পোস্ট) যথেষ্ট। শক্ত রাসায়নিক সার এড়িয়ে চলুন। মাটি শক্ত হয়ে গেলে হালকা করে খুঁচিয়ে দিন। 

কুয়াশা ও পোকা থেকে সুরক্ষা

শীতের কুয়াশা অনেক গাছের পাতার জন্য ক্ষতিকর। ভোরে কুয়াশা জমে থাকলে হালকা ঝাড়ু বা কাপড়ে মুছে দিন। খুব ঠান্ডা বাতাসে সংবেদনশীল গাছ রাতে দেয়ালের পাশে সরিয়ে রাখুন। পোকামাকড়ের দিকেও নজর রাখুন। পাতার নিচে সাদা পোকা বা এফিড দেখলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন। নিমতেল স্প্রে (৭–১০ দিনে একবার) কার্যকর। শুকনো পাতা নিয়মিত পরিষ্কার করুন। 

শীতই ছাদবাগানের জন্য সবচেয়ে ভালো মৌসুম। যেমন ধনেপাতা, পালং, লেটুস, মেথি, গাঁদা, পেটুনিয়া, ডায়ানথাস, টমেটো, মরিচ, বেগুন, লাউ গাছ প্রভৃতি চাষের জন্য উর্বর সময় এই শীত।

মনে রাখবেন, শীতে ছাদবাগান মানেই বাড়তি পরিশ্রম নয়। বরং সঠিক যত্ন আর নিয়মিত নজরই যথেষ্ট। জল কম, রোদ বেশি, আর গাছের ভাষা বোঝার চেষ্টা করলে শীতজুড়েই ছাদে থাকবে সবুজের উৎসব।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতা: চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াত প্রার্থীর প্রার্থিতা আপিলেও বাতিল

এই শীতে ছাদবাগানের যত্নে…

আপডেট সময় : ০৬:৩৫:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

শীত মানেই আরাম, মানুষের জন্য। কিন্তু ছাদবাগানের গাছের কাছে এই সময়টা বেশ চ্যালেঞ্জের। কুয়াশা, ঠান্ডা বাতাস আর সূর্যের স্বল্পতায় অনেক গাছই ঝিমিয়ে পড়ে। একটু অসতর্ক হলেই পাতার রং বদলায়, বৃদ্ধি থেমে যায়, এমনকি গাছ শুকিয়েও যেতে পারে। তাই শীতে ছাদবাগান সবুজ রাখতে চাইলে দরকার আলাদা যত্নের পরিকল্পনা।

পানি দেওয়ায় সংযম

শীতে গাছের পানির চাহিদা কমে যায়। অতিরিক্ত জল দিলে টবের মাটি ভিজে থাকে দীর্ঘক্ষণ, ফলে শিকড় পচে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

সপ্তাহে ২–৩ দিন দিলেই যথেষ্ট। সকালে দেওয়াই সবচেয়ে ভালো। টবের নিচে পানি জমে থাকছে কি না, নজর রাখা জরুরি। রোদ যেন পায় ঠিকঠাক, কারণ শীতে সূর্যের আলো তুলনামূলক দুর্বল থাকে।

দিনে অন্তত ৪–৫ ঘণ্টা রোদ পাওয়া জায়গায় টব রাখুন। ছায়াপ্রিয় গাছ আলাদা রাখুন। প্রয়োজনে টবের অবস্থান বদলান।

মাটির যত্ন ও সার

এই সময়ে গাছ খুব দ্রুত বাড়ে না, তাই ভারী সার দেওয়ার দরকার নেই। মাসে একবার জৈব সার (কম্পোস্ট/ভার্মি কম্পোস্ট) যথেষ্ট। শক্ত রাসায়নিক সার এড়িয়ে চলুন। মাটি শক্ত হয়ে গেলে হালকা করে খুঁচিয়ে দিন। 

কুয়াশা ও পোকা থেকে সুরক্ষা

শীতের কুয়াশা অনেক গাছের পাতার জন্য ক্ষতিকর। ভোরে কুয়াশা জমে থাকলে হালকা ঝাড়ু বা কাপড়ে মুছে দিন। খুব ঠান্ডা বাতাসে সংবেদনশীল গাছ রাতে দেয়ালের পাশে সরিয়ে রাখুন। পোকামাকড়ের দিকেও নজর রাখুন। পাতার নিচে সাদা পোকা বা এফিড দেখলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন। নিমতেল স্প্রে (৭–১০ দিনে একবার) কার্যকর। শুকনো পাতা নিয়মিত পরিষ্কার করুন। 

শীতই ছাদবাগানের জন্য সবচেয়ে ভালো মৌসুম। যেমন ধনেপাতা, পালং, লেটুস, মেথি, গাঁদা, পেটুনিয়া, ডায়ানথাস, টমেটো, মরিচ, বেগুন, লাউ গাছ প্রভৃতি চাষের জন্য উর্বর সময় এই শীত।

মনে রাখবেন, শীতে ছাদবাগান মানেই বাড়তি পরিশ্রম নয়। বরং সঠিক যত্ন আর নিয়মিত নজরই যথেষ্ট। জল কম, রোদ বেশি, আর গাছের ভাষা বোঝার চেষ্টা করলে শীতজুড়েই ছাদে থাকবে সবুজের উৎসব।