ঢাকা ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

গণভোটে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ব্যাংকের সিএসআর তহবিল ব্যবহারের পরামর্শ গভর্নরের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০২:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটকে কেন্দ্র করে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যাংকগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি জানিয়েছেন, কোনো বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) যদি এই গণভোট বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আর্থিক সহায়তা চায়, তবে ব্যাংকগুলো তাদের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় অনুদান প্রদান করতে পারবে।

গত রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত ‘ব্যাংকার্স সভায়’ গভর্নর এই পরামর্শ দেন। সভায় নির্ধারিত আলোচ্যসূচির বাইরেও ‘গভর্নর কর্তৃক সরাসরি উপস্থাপন’ শীর্ষক একটি বিশেষ এজেন্ডার আওতায় দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর আসন্ন গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জনগণকে এই ভোট প্রক্রিয়ায় সচেতন করা প্রতিটি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়িত্ব। বিশেষ করে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়িত না হলে দেশের ওপর এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যাংকগুলোর সামাজিক দায়বদ্ধতা খাত থেকে সহায়তা প্রদান একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে।

একই সভায় নির্বাচনকালীন সময়ে দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং তহবিল ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন গভর্নর। তিনি উল্লেখ করেন, বাজারে ডলারের প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার ক্রয় করছে। চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৭৫ কোটি ডলার ক্রয়ের বিপরীতে বাজার ব্যবস্থায় প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করা হয়েছে। বাজারে ছাড়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থ যেন কোনোভাবেই অনুৎপাদনশীল খাত বা অপচয়মূলক কাজে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে কঠোর নজরদারি করার নির্দেশ দেন তিনি।

এদিকে, নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বাজারে কালো টাকার অবৈধ প্রভাব রুখতে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। নগদ লেনদেনের তদারকি জোরদার করতে গত বৃহস্পতিবার একটি নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি অংকের যেকোনো লেনদেনের তথ্য এখন থেকে মাসিক ভিত্তিতে নয়, বরং সাপ্তাহিক ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে হবে। প্রতিটি সপ্তাহ শেষ হওয়ার পরবর্তী তিন কর্মদিবসের মধ্যে এই তথ্য পাঠানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা আগে পরবর্তী মাসের ২১ তারিখের মধ্যে পাঠানোর নিয়ম ছিল।

ব্যাংকার্স সভায় উপস্থিত একাধিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, গভর্নরের এই নির্দেশনাগুলো বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী। বিশেষ করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যাংকিং খাতের অংশগ্রহণ দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ: সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ

গণভোটে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ব্যাংকের সিএসআর তহবিল ব্যবহারের পরামর্শ গভর্নরের

আপডেট সময় : ১০:০২:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটকে কেন্দ্র করে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যাংকগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি জানিয়েছেন, কোনো বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) যদি এই গণভোট বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আর্থিক সহায়তা চায়, তবে ব্যাংকগুলো তাদের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় অনুদান প্রদান করতে পারবে।

গত রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত ‘ব্যাংকার্স সভায়’ গভর্নর এই পরামর্শ দেন। সভায় নির্ধারিত আলোচ্যসূচির বাইরেও ‘গভর্নর কর্তৃক সরাসরি উপস্থাপন’ শীর্ষক একটি বিশেষ এজেন্ডার আওতায় দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর আসন্ন গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জনগণকে এই ভোট প্রক্রিয়ায় সচেতন করা প্রতিটি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়িত্ব। বিশেষ করে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়িত না হলে দেশের ওপর এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যাংকগুলোর সামাজিক দায়বদ্ধতা খাত থেকে সহায়তা প্রদান একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে।

একই সভায় নির্বাচনকালীন সময়ে দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং তহবিল ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন গভর্নর। তিনি উল্লেখ করেন, বাজারে ডলারের প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার ক্রয় করছে। চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৭৫ কোটি ডলার ক্রয়ের বিপরীতে বাজার ব্যবস্থায় প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করা হয়েছে। বাজারে ছাড়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থ যেন কোনোভাবেই অনুৎপাদনশীল খাত বা অপচয়মূলক কাজে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে কঠোর নজরদারি করার নির্দেশ দেন তিনি।

এদিকে, নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বাজারে কালো টাকার অবৈধ প্রভাব রুখতে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। নগদ লেনদেনের তদারকি জোরদার করতে গত বৃহস্পতিবার একটি নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি অংকের যেকোনো লেনদেনের তথ্য এখন থেকে মাসিক ভিত্তিতে নয়, বরং সাপ্তাহিক ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে হবে। প্রতিটি সপ্তাহ শেষ হওয়ার পরবর্তী তিন কর্মদিবসের মধ্যে এই তথ্য পাঠানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা আগে পরবর্তী মাসের ২১ তারিখের মধ্যে পাঠানোর নিয়ম ছিল।

ব্যাংকার্স সভায় উপস্থিত একাধিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, গভর্নরের এই নির্দেশনাগুলো বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী। বিশেষ করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যাংকিং খাতের অংশগ্রহণ দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।