দেশের জেলা পর্যায়ের অধিকাংশ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র এখন চিকিৎসক, জনবল এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকটে ভুগছে। গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এসব কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে এগুলো প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সাতক্ষীরার ৯টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র চিকিৎসক ও ওষুধ সংকটে কার্যত অচল। অন্যদিকে, মুন্সিগঞ্জের ৫৭টি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেল অফিসার পদ খালি রয়েছে। ফার্মাসিস্টসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদেও জনবল নেই। একটি কেন্দ্রে যেখানে অন্তত তিনজন কর্মী থাকার কথা, সেখানে মাত্র দুইজন দিয়ে কোনোমতে কাজ চালানো হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও জেলার ৪৬টি স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্রে শিশুদের টিকা দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো চিকিৎসাসেবা মিলছে না। সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আগে যে পরিমাণ ওষুধ সরবরাহ করা হতো, বর্তমানে তার তুলনায় সরবরাহ অনেক কমে গেছে। একই অবস্থা বিরাজ করছে শরীয়তপুরেও; যেখানে ৩৪টি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৬২৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৩৭০ জন। বিশাল এই জনবল ঘাটতির কারণে সেবা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটে বেহাল দশা বিরাজ করছে শেরপুর, নওগাঁ, নাটোর, দিনাজপুর, চাঁদপুর, পটুয়াখালী, হবিগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে। চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহা জানান, জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন পর্যায়ে দ্রুত জনবল নিয়োগ ও পদ অনুমোদন প্রয়োজন। শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দিন ওষুধের কিছু ঘাটতির কথা স্বীকার করে বলেন, দ্রুত এই সমস্যা সমাধান করা হবে যাতে মানুষ পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা পায়।
প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ এবং নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
রিপোর্টারের নাম 

























