ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে দেশটিতে বিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ পুনরায় সচল করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা ‘স্টারলিংক’ ব্যবহারের মাধ্যমে ইরানি নাগরিকদের যোগাযোগের সুযোগ করে দিতে তিনি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের সাথে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “যদি সম্ভব হয়, তবে আমরা সেখানে পুনরায় ইন্টারনেট সেবা চালু করার সর্বাত্মক চেষ্টা করব।” এ সময় তিনি ইলন মাস্কের কারিগরি দক্ষতার প্রশংসা করে জানান, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি দ্রুতই মাস্কের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলবেন।
মূলত গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ শুরু হয়। সময়ের সাথে সাথে এই প্রতিবাদ ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সমন্বয় ভাঙতে গত বৃহস্পতিবার থেকে দেশটির সরকার প্রায় সব ধরনের ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয়। এর ফলে ইরান কার্যত বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির সঠিক তথ্য পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, তেহরান এই অস্থিরতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। ইরান সরকারের দাবি, বিদেশি শক্তিগুলো উসকানি দিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে ওয়াশিংটন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ইরানি জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি স্টারলিংকের মাধ্যমে ইরানে ইন্টারনেট সরবরাহ করা সম্ভব হয়, তবে তা দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে ভৌগোলিক ও প্রযুক্তিগত কিছু চ্যালেঞ্জের কারণে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। বর্তমানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে দেশটির সাধারণ নাগরিক ও সংবাদমাধ্যমগুলো চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 





















