বাগেরহাটের ফকিরহাটে পানের বাজারে ধস নামায় পান চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একদিকে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং অন্যদিকে পানের দাম কমে অর্ধেকে নেমে যাওয়ায় তারা পান চাষের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। অনেকে পান বরজ ছেড়ে অন্য পেশার দিকে ঝুঁকছেন। চাষিদের দেওয়া তথ্যমতে, প্রায় এক তৃতীয়াংশ চাষি পেশা ছাড়ার পথে।
উপজেলার টাউন নওয়াপাড়া, চুলকাঠি, ফকিরহাট সদর ও মানসা বাজার ঘুরে পানের এই দরপতনের খবর দেখা গেছে। ফকিরহাটে অবস্থিত দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ টাউন নওয়াপাড়া পানের হাটে বর্তমানে প্রতিকুড়ি (৫১২০টি) বড় পান ৮ থেকে ১১ হাজার টাকা, মাঝারি পান ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা এবং ছোট পান ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গতবছর একই সময়ে বড় পান ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা, মাঝারি পান ১০ থেকে ১৩ হাজার টাকা এবং ছোট পান ৩ থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছিল।
পান চাষিরা জানান, গতবছরের তুলনায় এবছর বরজের কাজে ব্যবহৃত উলু, সলাকা, হাড়ি (বর্গা জমি) খরচ, খৈল ইত্যাদির দাম প্রায় দেড়গুণ বেড়েছে, অথচ পানের দাম অর্ধেকের কম। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে উপজেলার প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ কৃষক পান চাষ ছেড়ে বিকল্প চাষের দিকে ঝুঁকছেন বা পান চাষে জমির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। চাষিরা আরও জানান, বরজে ছোট ও কুচা পান নষ্ট হচ্ছে, যা কাটলে শ্রমিকের দামও উঠবে না বলে তারা ফেলে রেখেছেন।
পাইকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে পানের চাহিদা কম এবং বিদেশে রফতানিতে ভাটা লেগেছে। ফলে তারা পান কিনতে আগ্রহ কম দেখাচ্ছেন, যা বাজারের ধসের মূল কারণ। ফকিরহাট কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় চলতি বছর ৪ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন পান উৎপাদন হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, সাধারণত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে পানের দাম কম থাকলেও এ বছর নভেম্বর মাসেও তা তুলনামূলকভাবে কম। জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আব্দুস সালাম তরফদার বলেন, বিদেশে রফতানি কমা, উৎপাদন বৃদ্ধি ও মানুষের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাসসহ বিভিন্ন কারণে পানের দাম কমতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 

























