ইসলামি শরিয়তে শুক্রবার বা জুমার দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। এই দিনকে সাপ্তাহিক ঈদের দিনও বলা হয় এবং এই দিনের নামেই কোরআনে একটি স্বতন্ত্র সুরা (সুরা জুমা) নাজিল করা হয়েছে। জুমার নামাজ প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানদের জন্য জোহরের নামাজের পরিবর্তে জামাতের সঙ্গে ফরজরূপে আদায় করতে হয়।
জুমার দিনের মাহাত্ম্য ও মর্যাদা
- সর্বশ্রেষ্ঠ দিন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যার ওপর সূর্য উদিত হয়েছে তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমার দিন। এই দিনে আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাকে জান্নাতে স্থান দেওয়া হয়েছে এবং এই দিনেই তাকে জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৪১০)।
- প্রথম জুমা: মুসলমানদের ওপর প্রথম হিজরিতে জুমার নামাজ ফরজ হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরতকালে মদিনায় পৌঁছে বনি সালেম গোত্রের উপত্যকায় সর্বপ্রথম জুমার নামাজ আদায় করেন।
জুমার দিনের আমলের ফজিলত

জুমার দিনে কিছু আমলের মাধ্যমে বিশেষ সওয়াব লাভ করা যায়।
- গোসল ও প্রথম প্রহরে মসজিদে যাওয়া: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি জুমার দিন ফরজ গোসলের মতো গোসল করে সবার আগে মসজিদে হাজির হয়, সে যেন একটি উট কোরবানি করল, দ্বিতীয়তে যে ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে সে যেন একটি গরু কোরবানি করল, তৃতীয়তে যে ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল সে যেন একটি ছাগল কোরবানি করল। … অতঃপর ইমাম যখন বের হয়ে এসে মিম্বরে বসেন খুতবার জন্য, তখন ফেরেশতারা লেখা বন্ধ করে খুতবা শুনতে বসে যান।” (সহিহ বুখারি, হাদিস-নং ৮৮১)।
- প্রতি কদমে এক বছরের নফল সওয়াব: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, আগে আগে মসজিদে গমন করল, হেঁটে মসজিদে গেল, ইমামের কাছাকাছি বসল, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনল, কোনো কথা বলল না, আল্লাহ তায়ালা তাকে প্রতি কদমে এক বছরের নফল ইবাদতের সওয়াব দান করবেন।” (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস-নং ৫৮১)।
- গুনাহ মাফ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে উত্তম পোশাক পরিধান করবে এবং সুগন্ধি ব্যবহার করবে, যদি তার নিকট থাকে। তারপর জুমার নামাজে আসে এবং অন্য মুসল্লিদের গায়ের ওপর দিয়ে টপকে সামনের দিকে না যায়। নির্ধারিত নামাজ আদায় করে। তারপর ইমাম খুতবার জন্য বের হওয়ার পর থেকে সালাম পর্যন্ত চুপ করে থাকে। তাহলে তার এই আমল পূর্ববর্তী জুমার দিন থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তার সব সগিরা গুনাহর জন্য কাফফারা হবে।” (আবু দাউদ, হাদিস-নং ৩৪৩)।
জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমলসমূহ

জুমার দিনের ফজিলত লাভের জন্য মুসলমানদের যে আমলগুলো করা জরুরি, তা সংক্ষেপে নিচে উল্লেখ করা হলো:
- ফজরের নামাজ: ফজরের ফরজ নামাজে সুরা সাজদা ও সুরা দাহর/ইনসান তেলাওয়াত করা।
- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: ভালোভাবে গোসল করা, নিজের সবচেয়ে উত্তম পোশাক পরা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা।
- মসজিদে গমন: জুমার নামাজের জন্য আগেভাগে মসজিদে যাওয়া এবং হেঁটে মসজিদে যাওয়া।
- খুতবা শ্রবণ: ইমামের কাছাকাছি গিয়ে বসা, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা এবং খুতবা চলাকালে কোনো কথা না বলা।
- নামাজ আদায়: মসজিদে গিয়ে জুমার নামাজের আগে কমপক্ষে ৪ রাকাত সুন্নত আদায় করা।
- কোরআন তেলাওয়াত: শুক্রবার দিন সুরা কাহফ তেলাওয়াত করা।
- দোয়া: দুই খুতবার মাঝের সময়ে এবং জুমার দিনের অন্য সময় বেশি বেশি দোয়া করা, কারণ এদিনে দোয়া কবুল হয়।
রিপোর্টারের নাম 

























