বাংলাদেশে স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্পের প্রবণতা বাড়তে থাকায়, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বিষয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ (২৭ নভেম্বর ২০২৫) বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট ২০ সেকেন্ডে নরসিংদীর ঘোড়াশালে ৩.৬ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এছাড়া ভোরের দিকে সিলেট ও টেকনাফেও দুই দফা ভূমিকম্প হয়েছে। ২১ নভেম্বরের ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত মোট ৬ দফায় কম্পন অনুভূত হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে, ৩ থেকে ৩.৯ মাত্রার ভূমিকম্প আসলে কতটা সাধারণ ঘটনা, তা জানলে আপনি অবাক হতে পারেন।
বিশ্বজুড়ে এই মাত্রার ভূমিকম্পের হার
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোর বৈশ্বিক হিসাব অনুযায়ী, ৩.০ থেকে ৩.৯ মাত্রার ভূমিকম্প পৃথিবীতে প্রতিদিন বহুবার সংঘটিত হয়।
- প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ বার: বিশ্বব্যাপী এই মাত্রার ভূমিকম্প প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ২০০ বার পর্যন্ত হতে পারে।
- প্রতি বছর: বছরে এই সংখ্যা ১ লাখেরও বেশি। কিছু পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ৪,৯,০০০ থেকে ১,০০,০০০ (এক লাখ) পর্যন্ত এই মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়।
এই মাত্রার ভূমিকম্পকে সাধারণত ‘Minor’ (স্বল্প) বা ‘Slight’ (সামান্য) ভূমিকম্প হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। এই ভূমিকম্পগুলো প্রায়শই মানুষ দ্বারা অনুভূত হয়, কিন্তু খুব কম ক্ষেত্রেই কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করে। ঘরের ভেতরের জিনিসপত্র সামান্য নড়াচড়া করতে পারে, কিন্তু কাঠামোতে বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
বিশ্বজুড়ে এই ধরনের স্বল্পমাত্রার কম্পন প্রতিনিয়ত ঘটলেও, বেশিরভাগই জনবসতি থেকে দূরে বা ভূগর্ভের গভীরে সংঘটিত হওয়ায় আমরা তার সবগুলো টের পাই না।
ভূমিকম্পের সময় সচেতনতা
ঢাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিলেও, ভূমিকম্পের সময় নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি। আপনার আগাম প্রস্তুতি, ভূমিকম্পের সময় কী করতে হবে এবং এর পরে কী করণীয়, এসব বিষয়ে জানা থাকলে ক্ষয়ক্ষতি ও আতঙ্ক অনেকটা কমানো যায়।
রিপোর্টারের নাম 

























