ঢাকা ০২:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

ফেসবুক বন্ধে মানসিক স্বাস্থ্য উন্নতির গবেষণা তথ্য লুকানোর অভিযোগ মেটার বিরুদ্ধে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট আদালতে মেটার বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলার নথিতে উঠে এসেছে যে কোম্পানিটি ফেসবুক ব্যবহারের ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কেমন প্রভাব পড়ে তা নিয়ে নিজস্ব গবেষণা চালিয়েছিল এবং সেই গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছে। গবেষণায় দেখা যায়, যে ব্যবহারকারীরা ফেসবুকের ব্যবহার বন্ধ করেছেন তারা বিষণ্নতা, উদ্বেগ এবং একাকীত্ব কম অনুভব করেছেন, এমন তথ্য উঠে আসার পর মেটা সেই গবেষণাটি স্থগিত করে দেয়।

দেশটির একাধিক স্কুলের দায়ের করা এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, প্ল্যাটফর্মে স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিটির জানা ছিল। তবে তারা সচেতনভাবে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে স্বাস্থ্যঝুঁকির তথ্য লুকিয়ে রেখেছে এবং তা প্রকাশ করেনি।

২০২০ সালে মার্কিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্টটি ‘প্রজেক্ট মার্কারি’ নামে একটি গবেষণা শুরু করেছিল। মেটার বিজ্ঞানীরা জরিপ প্রতিষ্ঠান ‘নিলসেন’-এর সহযোগিতায় খতিয়ে দেখেন, ফেসবুক ‘ডিঅ্যাক্টিভেট’ করলে তা ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কী প্রভাব ফেলে। মামলার অভিযোগ অনুসারে, যখন গবেষণায় এটি প্রমাণিত হয় যে ফেসবুকের ব্যবহার বন্ধে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে, তখন মেটা ওই প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়। ফলাফল প্রকাশ না করে কোম্পানিটি কারণ দেখায় যে, কোম্পানির বিষয়ে প্রচলিত মিডিয়ার বর্ণনার কারণে গবেষণার ফলাফলের ওপর প্রভাব পড়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের নথিতে মেটার অভ্যন্তরীণ গবেষকরা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে গবেষণার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। একজন গবেষক লেখেন, “নিলসেনের গবেষণায় উঠে এসেছে, ফেসবুক ব্যবহার সামাজিক তুলনার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে”। আরেক গবেষক এই গবেষণার ফলাফলকে তামাক শিল্পের সঙ্গে তুলনা করে লিখেছেন যে, “বিভিন্ন তামাক কোম্পানি জানে যে সিগারেট ক্ষতিকর, তারপরও সেই তথ্য তারা নিজেদের কাছে লুকিয়ে রাখে”। রয়টার্স মনে করিয়ে দিয়েছে, মেটার এই পদক্ষেপ ১৯৮০-এর দশকে ডাচ-ব্রিটিশ তেল কোম্পানি শেল ও আমেরিকান তেল কোম্পানি এক্সন কর্তৃক জীবাশ্ম জ্বালানির কারণে জলবায়ু বিপর্যয়ের অভ্যন্তরীণ গবেষণা লুকিয়ে রাখার মতোই।

তবে এক বিবৃতিতে মেটার একজন মুখপাত্র এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, “আমাদের সম্পূর্ণ তথ্য দেখলে বোঝা যাবে, আমরা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিভাবকদের কথা শুনে, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গবেষণা করে কিশোর ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় বাস্তব পরিবর্তন এনেছি।” মুখপাত্রটি কোম্পানির ইনস্টাগ্রাম ‘টিন অ্যাকাউন্টস’-এর কথা তুলে ধরে আরও বলেছেন, “আমরা এসব অভিযোগের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে দ্বিমত পোষণ করছি, কারণ এগুলো বাছাই করা উদ্ধৃতি ও ভুল ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।” মেটা দাবি করেছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তৈরি এই নথিগুলো এখনও প্রকাশ হয়নি এবং তা বাতিল করা উচিত।

যুক্তরাষ্ট্রের শত শত ডিস্ট্রিক্ট স্কুল এই মামলা দায়ের করেছে, যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অফ ক্যালিফোর্নিয়া আদালত পরিচালনা করছে এবং শুনানির জন্য ২৬ জানুয়ারি দিন ধার্য হয়েছে। মেটার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা লুকিয়ে রাখার অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগে, ২০২৩ সালে ৪১টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অফ কলাম্বিয়া মেটার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল, যেখানে অভিযোগ ছিল, কোম্পানির প্ল্যাটফর্ম টিনএজ ব্যবহারকারীদের ক্ষতির পাশাপাশি তাদের সামাজিক মাধ্যমে আসক্ত করে তুলছে। সেই মামলার রায়ে একজন বিচারক বলেছিলেন, মেটার আইনজীবীরা অভ্যন্তরীণ গবেষণা ব্লকের চেষ্টা করেছেন, সেই গবেষণাতেও প্ল্যাটফর্মগুলো টিনএজারদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে উঠে এসেছিল।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের ওয়ানডে জয়ে বাংলাদেশের সৈকত, আইসিসি চুক্তিতে নেই বিসিবির বাধা

ফেসবুক বন্ধে মানসিক স্বাস্থ্য উন্নতির গবেষণা তথ্য লুকানোর অভিযোগ মেটার বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ১১:৫৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট আদালতে মেটার বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলার নথিতে উঠে এসেছে যে কোম্পানিটি ফেসবুক ব্যবহারের ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কেমন প্রভাব পড়ে তা নিয়ে নিজস্ব গবেষণা চালিয়েছিল এবং সেই গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছে। গবেষণায় দেখা যায়, যে ব্যবহারকারীরা ফেসবুকের ব্যবহার বন্ধ করেছেন তারা বিষণ্নতা, উদ্বেগ এবং একাকীত্ব কম অনুভব করেছেন, এমন তথ্য উঠে আসার পর মেটা সেই গবেষণাটি স্থগিত করে দেয়।

দেশটির একাধিক স্কুলের দায়ের করা এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, প্ল্যাটফর্মে স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিটির জানা ছিল। তবে তারা সচেতনভাবে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে স্বাস্থ্যঝুঁকির তথ্য লুকিয়ে রেখেছে এবং তা প্রকাশ করেনি।

২০২০ সালে মার্কিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্টটি ‘প্রজেক্ট মার্কারি’ নামে একটি গবেষণা শুরু করেছিল। মেটার বিজ্ঞানীরা জরিপ প্রতিষ্ঠান ‘নিলসেন’-এর সহযোগিতায় খতিয়ে দেখেন, ফেসবুক ‘ডিঅ্যাক্টিভেট’ করলে তা ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কী প্রভাব ফেলে। মামলার অভিযোগ অনুসারে, যখন গবেষণায় এটি প্রমাণিত হয় যে ফেসবুকের ব্যবহার বন্ধে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে, তখন মেটা ওই প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়। ফলাফল প্রকাশ না করে কোম্পানিটি কারণ দেখায় যে, কোম্পানির বিষয়ে প্রচলিত মিডিয়ার বর্ণনার কারণে গবেষণার ফলাফলের ওপর প্রভাব পড়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের নথিতে মেটার অভ্যন্তরীণ গবেষকরা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে গবেষণার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। একজন গবেষক লেখেন, “নিলসেনের গবেষণায় উঠে এসেছে, ফেসবুক ব্যবহার সামাজিক তুলনার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে”। আরেক গবেষক এই গবেষণার ফলাফলকে তামাক শিল্পের সঙ্গে তুলনা করে লিখেছেন যে, “বিভিন্ন তামাক কোম্পানি জানে যে সিগারেট ক্ষতিকর, তারপরও সেই তথ্য তারা নিজেদের কাছে লুকিয়ে রাখে”। রয়টার্স মনে করিয়ে দিয়েছে, মেটার এই পদক্ষেপ ১৯৮০-এর দশকে ডাচ-ব্রিটিশ তেল কোম্পানি শেল ও আমেরিকান তেল কোম্পানি এক্সন কর্তৃক জীবাশ্ম জ্বালানির কারণে জলবায়ু বিপর্যয়ের অভ্যন্তরীণ গবেষণা লুকিয়ে রাখার মতোই।

তবে এক বিবৃতিতে মেটার একজন মুখপাত্র এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, “আমাদের সম্পূর্ণ তথ্য দেখলে বোঝা যাবে, আমরা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিভাবকদের কথা শুনে, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গবেষণা করে কিশোর ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় বাস্তব পরিবর্তন এনেছি।” মুখপাত্রটি কোম্পানির ইনস্টাগ্রাম ‘টিন অ্যাকাউন্টস’-এর কথা তুলে ধরে আরও বলেছেন, “আমরা এসব অভিযোগের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে দ্বিমত পোষণ করছি, কারণ এগুলো বাছাই করা উদ্ধৃতি ও ভুল ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।” মেটা দাবি করেছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তৈরি এই নথিগুলো এখনও প্রকাশ হয়নি এবং তা বাতিল করা উচিত।

যুক্তরাষ্ট্রের শত শত ডিস্ট্রিক্ট স্কুল এই মামলা দায়ের করেছে, যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অফ ক্যালিফোর্নিয়া আদালত পরিচালনা করছে এবং শুনানির জন্য ২৬ জানুয়ারি দিন ধার্য হয়েছে। মেটার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা লুকিয়ে রাখার অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগে, ২০২৩ সালে ৪১টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অফ কলাম্বিয়া মেটার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল, যেখানে অভিযোগ ছিল, কোম্পানির প্ল্যাটফর্ম টিনএজ ব্যবহারকারীদের ক্ষতির পাশাপাশি তাদের সামাজিক মাধ্যমে আসক্ত করে তুলছে। সেই মামলার রায়ে একজন বিচারক বলেছিলেন, মেটার আইনজীবীরা অভ্যন্তরীণ গবেষণা ব্লকের চেষ্টা করেছেন, সেই গবেষণাতেও প্ল্যাটফর্মগুলো টিনএজারদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে উঠে এসেছিল।