ঢাকা ০৩:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচি: ৩১ লাখের বেশি শিক্ষার্থী পাবে পুষ্টিকর খাবার

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টিগত অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে আজ শনিবার থেকে সারা দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে ‘মিড-ডে মিল’ বা স্কুল ফিডিং কর্মসূচি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার আজ নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এই প্রকল্পটি ২০২৭ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চলবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান এবং এই প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

কর্মসূচির আওতা ও খাদ্য তালিকা

প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, দেশের নির্বাচিত ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৩১ লাখ ১৩ হাজার শিক্ষার্থীকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। সপ্তাহে পাঁচ দিন স্কুল চলাকালীন কর্মদিবসে তাদের ফর্টিফাইড বিস্কুট, কলা বা মৌসুমি ফল, বনরুটি, ডিম এবং ইউএইচটি দুধের মতো পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হবে।

খাদ্য তালিকা অনুসারে:

  • রবিবার: ১২০ গ্রাম ওজনের বনরুটি এবং একটি সিদ্ধ ডিম।
  • সোমবার: বনরুটি এবং ২০০ গ্রাম ইউএইচটি দুধ।
  • মঙ্গলবার: ৭৫ গ্রাম ওজনের ফর্টিফাইড বিস্কুট এবং কলা বা স্থানীয় মৌসুমি ফল।
  • বুধবার ও বৃহস্পতিবার: বনরুটি এবং সিদ্ধ ডিম।

প্রস্তাবিত এই খাদ্য তালিকায় মোট এনার্জির ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ৩২ দশমিক ২ শতাংশ, প্রোটিনের ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ফ্যাটের ২১ দশমিক ৭ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

লক্ষ্য ও প্রত্যাশিত ফলাফল

‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’র প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ গণমাধ্যমে জানান, এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য হলো:

  • সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক ও গুণগত শিক্ষা অর্জনে সহায়তা করা।
  • পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহের মাধ্যমে তাদের পুষ্টিগত অবস্থার উন্নয়ন সাধন করা।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে:

  • বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতির হার শতকরা ৮০ ভাগের বেশি হবে এবং ঝরে পড়ার হার কমবে।
  • প্রত্যেক বছর শতকরা ১০ ভাগের বেশি হিসেবে বিদ্যালয়ে প্রকৃত ভর্তির হার বৃদ্ধি পাবে।
  • বিদ্যালয়ে শিশুদের ধরে রাখার হার অন্তত ৯৯ শতাংশে উন্নীত হবে।
  • শিশুদের পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের হার ৯০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের ক্ষুধা নিবারণ হবে।

প্রকল্প পরিচালক আরও জানান, এই উদ্যোগ শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পর্যায়ক্রমে সরকার সারা দেশে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করার বিষয়েও পরিকল্পনা করছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

এলপিজি আমদানিতে বিশেষ ঋণসুবিধা: ২৭০ দিন পর্যন্ত বাকিতে আনার সুযোগ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচি: ৩১ লাখের বেশি শিক্ষার্থী পাবে পুষ্টিকর খাবার

আপডেট সময় : ১২:০২:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টিগত অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে আজ শনিবার থেকে সারা দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে ‘মিড-ডে মিল’ বা স্কুল ফিডিং কর্মসূচি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার আজ নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এই প্রকল্পটি ২০২৭ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চলবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান এবং এই প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

কর্মসূচির আওতা ও খাদ্য তালিকা

প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, দেশের নির্বাচিত ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৩১ লাখ ১৩ হাজার শিক্ষার্থীকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। সপ্তাহে পাঁচ দিন স্কুল চলাকালীন কর্মদিবসে তাদের ফর্টিফাইড বিস্কুট, কলা বা মৌসুমি ফল, বনরুটি, ডিম এবং ইউএইচটি দুধের মতো পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হবে।

খাদ্য তালিকা অনুসারে:

  • রবিবার: ১২০ গ্রাম ওজনের বনরুটি এবং একটি সিদ্ধ ডিম।
  • সোমবার: বনরুটি এবং ২০০ গ্রাম ইউএইচটি দুধ।
  • মঙ্গলবার: ৭৫ গ্রাম ওজনের ফর্টিফাইড বিস্কুট এবং কলা বা স্থানীয় মৌসুমি ফল।
  • বুধবার ও বৃহস্পতিবার: বনরুটি এবং সিদ্ধ ডিম।

প্রস্তাবিত এই খাদ্য তালিকায় মোট এনার্জির ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ৩২ দশমিক ২ শতাংশ, প্রোটিনের ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ফ্যাটের ২১ দশমিক ৭ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

লক্ষ্য ও প্রত্যাশিত ফলাফল

‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’র প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ গণমাধ্যমে জানান, এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য হলো:

  • সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক ও গুণগত শিক্ষা অর্জনে সহায়তা করা।
  • পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহের মাধ্যমে তাদের পুষ্টিগত অবস্থার উন্নয়ন সাধন করা।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে:

  • বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতির হার শতকরা ৮০ ভাগের বেশি হবে এবং ঝরে পড়ার হার কমবে।
  • প্রত্যেক বছর শতকরা ১০ ভাগের বেশি হিসেবে বিদ্যালয়ে প্রকৃত ভর্তির হার বৃদ্ধি পাবে।
  • বিদ্যালয়ে শিশুদের ধরে রাখার হার অন্তত ৯৯ শতাংশে উন্নীত হবে।
  • শিশুদের পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের হার ৯০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের ক্ষুধা নিবারণ হবে।

প্রকল্প পরিচালক আরও জানান, এই উদ্যোগ শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পর্যায়ক্রমে সরকার সারা দেশে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করার বিষয়েও পরিকল্পনা করছে।