ঢাকা ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা ও বাফার স্টক গড়ার তাগিদ জামায়াত আমিরের

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারকে অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) এগ্রিকালিচারিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ (এএফবি) আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। ডা. শফিকুর বলেন, ক্ষমতা মানুষকে অন্ধ করে দেয়, যার ফলে তারা সমাজকে স্বাভাবিকভাবে দেখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তিনি সরকারকে স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে জনকল্যাণে কাজ করার পরামর্শ দেন।

জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করে জামায়াত আমির বলেন, সংকট মোকাবিলায় স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তত ৬০ থেকে ৯০ দিনের জ্বালানি বাফার স্টক বা মজুত গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, জ্বালানি খাতের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। এসব পদক্ষেপ নেওয়া হলে জাতি বর্তমান সরকারকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কৃষিখাতকে দেশের প্রাণশক্তি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে’—এই ধ্রুব সত্যটি ভুলে গেলে চলবে না। সমাজে যার যা প্রাপ্য, তা বুঝিয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকে যদি আল্লাহর ভয়ে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে, তবেই দেশ মুক্তি পাবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হলেও খনিজ সম্পদ উত্তোলনের ক্ষেত্রে আমাদের অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয়। বাপেক্সকে যথাযথভাবে কাজে না লাগানো এবং দেশীয় দক্ষতাকে অবমূল্যায়ন করার সমালোচনা করেন তিনি।

সেমিনারে ডা. শফিকুর রহমান জ্বালানি খাতের সিন্ডিকেট নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে বলেন, উন্নত বিশ্ব যখন লিকুইড এনার্জি থেকে সরে আসছে, তখন আমাদের দেশে সিন্ডিকেটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি খাতের সব সিন্ডিকেটই ক্ষমতাশীনদের ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে। জ্বালানি সংকটে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, তেলের জন্য পাম্পগুলোতে মানুষের দীর্ঘ সারি প্রমাণ করে যে পরিস্থিতি কতটা নাজুক, অথচ সংসদে দায়িত্বশীলরা অবাস্তব কথা বলছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাম্পে তেল নেই, জমিতে পানি নেই: রংপুরের বোরো ক্ষেত ফেটে চৌচির, দিশেহারা কৃষক

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা ও বাফার স্টক গড়ার তাগিদ জামায়াত আমিরের

আপডেট সময় : ০১:৩১:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারকে অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) এগ্রিকালিচারিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ (এএফবি) আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। ডা. শফিকুর বলেন, ক্ষমতা মানুষকে অন্ধ করে দেয়, যার ফলে তারা সমাজকে স্বাভাবিকভাবে দেখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তিনি সরকারকে স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে জনকল্যাণে কাজ করার পরামর্শ দেন।

জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করে জামায়াত আমির বলেন, সংকট মোকাবিলায় স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তত ৬০ থেকে ৯০ দিনের জ্বালানি বাফার স্টক বা মজুত গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, জ্বালানি খাতের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। এসব পদক্ষেপ নেওয়া হলে জাতি বর্তমান সরকারকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কৃষিখাতকে দেশের প্রাণশক্তি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে’—এই ধ্রুব সত্যটি ভুলে গেলে চলবে না। সমাজে যার যা প্রাপ্য, তা বুঝিয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকে যদি আল্লাহর ভয়ে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে, তবেই দেশ মুক্তি পাবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হলেও খনিজ সম্পদ উত্তোলনের ক্ষেত্রে আমাদের অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয়। বাপেক্সকে যথাযথভাবে কাজে না লাগানো এবং দেশীয় দক্ষতাকে অবমূল্যায়ন করার সমালোচনা করেন তিনি।

সেমিনারে ডা. শফিকুর রহমান জ্বালানি খাতের সিন্ডিকেট নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে বলেন, উন্নত বিশ্ব যখন লিকুইড এনার্জি থেকে সরে আসছে, তখন আমাদের দেশে সিন্ডিকেটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি খাতের সব সিন্ডিকেটই ক্ষমতাশীনদের ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে। জ্বালানি সংকটে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, তেলের জন্য পাম্পগুলোতে মানুষের দীর্ঘ সারি প্রমাণ করে যে পরিস্থিতি কতটা নাজুক, অথচ সংসদে দায়িত্বশীলরা অবাস্তব কথা বলছেন।