আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’কে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তর করতে যাচ্ছে নবগঠিত বিএনপি সরকার। গত বছর ১১ মে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ-সংগঠনের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল। এবার সেই অধ্যাদেশটি সংশোধন করে সুনির্দিষ্ট শাস্তির বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব আনা হয়েছে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে সংসদে পাস না হলে এই অধ্যাদেশটি কার্যকারিতা হারাত। তবে গত বৃহস্পতিবার সংসদের বিশেষ কমিটি এই অধ্যাদেশটিকে স্থায়ী আইন হিসেবে পাসের সুপারিশ করেছে।
প্রস্তাবিত এই আইনের ফলে আওয়ামী লীগ কোনো ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন বা রাজনৈতিক পোস্টার-ব্যানার প্রচার করতে পারবে না। এছাড়া দলটির সকল কার্যালয় বন্ধ এবং ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আগের অধ্যাদেশে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে শাস্তির বিষয়টি অস্পষ্ট থাকলেও, নতুন আইনে ৪ থেকে ১৪ বছরের কারাদণ্ডের বিধান যুক্ত করার সুপারিশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো সত্তা যদি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও নির্বাচনের আগে বিএনপি নির্বাহী আদেশে দল নিষিদ্ধের বিপক্ষে ছিল, তবে সরকার গঠনের পর তারা এই অধ্যাদেশটিকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার পথে হাঁটছে।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা না হলেও দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান জানিয়েছেন, অতীতেও এমন বিপর্যয় তারা মোকাবিলা করেছেন এবং সময়মতো আইনি ও রাজনৈতিকভাবে এর প্রতিবাদ জানানো হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আইনটি পাস হলে আওয়ামী লীগের জন্য পুনরায় রাজনীতিতে ফেরা বা সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়বে। বিশেষ করে জামায়াত ও এনসিপি জোটের প্রবল দাবির মুখে সরকার এই কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে সংসদের বিশেষ কমিটি ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধনের যে তালিকা তৈরি করেছে, তার মধ্যে এই ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’টি সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে।
রিপোর্টারের নাম 
























