ঢাকা ০৯:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

গণভোট ও নৈতিক সংকট: অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

ড. মুহাম্মদ আনোয়ার জাহিদ কর্তৃক লিখিত এই নিবন্ধে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণভোট এবং এর সাথে জড়িত নৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের প্রয়োজনের নীতির (Doctrine of State Necessity) ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক বৈধতা লাভ করে। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের The State v. Dosso মামলায় অনুরূপ নীতি প্রয়োগের নজিরও উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পরামর্শ করে একটি সংস্কার কমিশন গঠন করে, যার লক্ষ্য ছিল কাঠামোগত দুর্বলতা ও দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত ও সংশোধন করা। এই সুপারিশগুলো সমন্বিত হয়ে ‘জুলাই সনদ’ নামে একটি ঐকমত্যভিত্তিক রূপরেখা তৈরি হয়, যা প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলো মেনে নেয়।

সনদ কার্যকর করার জন্য গণভোটের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। বিএনপি সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের দাবি জানালে অন্তর্বর্তী সরকার তা গ্রহণ করে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে এবং জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয়।

তবে এরপর পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। বিএনপি সংসদ সদস্যরা এমপি হিসেবে শপথ নিলেও গণপরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং গণভোট বাতিল চেয়ে রিট আবেদন দাখিল করেন। ফলে দেশ এক গভীর সাংবিধানিক সংকটের মুখে পড়েছে।

নিবন্ধে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যদি প্রয়োজনের ভিত্তিতে বৈধ ঘোষিত অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়, তবে একই কর্তৃত্বে একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোট কেন প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে? যদি বিএনপি যুক্তি দেয় যে অন্তর্বর্তী সরকার পূর্ববর্তী সংবিধানের সৃষ্ট সত্তা নয়, তবে সংসদীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রেও একই আপত্তি প্রযোজ্য। একই বিষয়ে একই সঙ্গে গ্রহণ ও বর্জন করা যায় না বলে লেখক উল্লেখ করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লিজেন্ডারি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলেকে শেষ বিদায়

গণভোট ও নৈতিক সংকট: অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৯:৫১:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

ড. মুহাম্মদ আনোয়ার জাহিদ কর্তৃক লিখিত এই নিবন্ধে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণভোট এবং এর সাথে জড়িত নৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের প্রয়োজনের নীতির (Doctrine of State Necessity) ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক বৈধতা লাভ করে। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের The State v. Dosso মামলায় অনুরূপ নীতি প্রয়োগের নজিরও উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পরামর্শ করে একটি সংস্কার কমিশন গঠন করে, যার লক্ষ্য ছিল কাঠামোগত দুর্বলতা ও দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত ও সংশোধন করা। এই সুপারিশগুলো সমন্বিত হয়ে ‘জুলাই সনদ’ নামে একটি ঐকমত্যভিত্তিক রূপরেখা তৈরি হয়, যা প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলো মেনে নেয়।

সনদ কার্যকর করার জন্য গণভোটের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। বিএনপি সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের দাবি জানালে অন্তর্বর্তী সরকার তা গ্রহণ করে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে এবং জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয়।

তবে এরপর পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। বিএনপি সংসদ সদস্যরা এমপি হিসেবে শপথ নিলেও গণপরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং গণভোট বাতিল চেয়ে রিট আবেদন দাখিল করেন। ফলে দেশ এক গভীর সাংবিধানিক সংকটের মুখে পড়েছে।

নিবন্ধে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যদি প্রয়োজনের ভিত্তিতে বৈধ ঘোষিত অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়, তবে একই কর্তৃত্বে একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোট কেন প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে? যদি বিএনপি যুক্তি দেয় যে অন্তর্বর্তী সরকার পূর্ববর্তী সংবিধানের সৃষ্ট সত্তা নয়, তবে সংসদীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রেও একই আপত্তি প্রযোজ্য। একই বিষয়ে একই সঙ্গে গ্রহণ ও বর্জন করা যায় না বলে লেখক উল্লেখ করেছেন।