বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এক অভাবনীয় ও আদিম কৌশলের পরিকল্পনা করছে। ড্রোন, থার্মাল ইমেজিং এবং বিদ্যুতায়িত কাঁটাতারের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেও সীমান্ত পুরোপুরি সুরক্ষিত করতে না পেরে এবার তারা প্রকৃতিপ্রদত্ত ‘যোদ্ধা’ অর্থাৎ বিষধর সাপ ও কুমির মোতায়েনের কথা ভাবছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ফেডারেল’-এর বরাতে জানা গেছে, সীমান্তের নদীপথ, জলাভূমি ও ঝোপঝাড় পাহারায় এই সরীসৃপ বাহিনীকে কাজে লাগানোর বিষয়ে বিএসএফ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো, কোনো বুলেট খরচ না করেই অনুপ্রবেশকারীদের মনে ভীতি সৃষ্টি করা এবং প্রাকৃতিক উপায়ে সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
বিএসএফের এই ‘ইকোলজিক্যাল ডিপ্লোম্যাসি’ বা বাস্তুসংস্থানিক কূটনীতি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে হাস্যরস ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকরা একে ‘একুশ শতকের পঞ্চতন্ত্র’ বলে অভিহিত করছেন। তাদের মতে, বন্দুকের গুলিতে মৃত্যু হলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘ জবাবদিহি চায়, কিন্তু সাপের কামড়ে বা কুমিরের পেটে গেলে দায় বিএসএফের ওপর চাপানো কঠিন হবে। তবে এই পরিকল্পনার ব্যবহারিক দিক নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে। সাপ বা কুমির তো আর রাজনৈতিক মানচিত্র বোঝে না; তারা দিক ভুল করে খোদ বিএসএফ জওয়ানদের ওপর চড়াও হতে পারে অথবা সাঁতরে বাংলাদেশের লোকালয়ে ঢুকে সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি করতে পারে।
যেখানে আধুনিক বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে সীমান্ত পাহারায় মধ্যযুগীয় দুর্গের পরিখার মতো কুমির ও সাপ ব্যবহারের চিন্তা বিবর্তনের এক অদ্ভুত মোড় হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ৪ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ এই সীমান্তে কত হাজার কুমির বা কত লাখ সাপের প্রয়োজন হবে, সেই হিসাব মেলানোই অসম্ভব। এছাড়া সীমান্তের দুই পাড়ে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা এই সরীসৃপ বাহিনীর কারণে চরম ঝুঁকিতে পড়বে। শেষ পর্যন্ত এই ‘চিড়িয়াখানা সংস্করণ’ সীমান্ত রক্ষা করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থাকলেও আপাতত বিএসএফের এই অভিনব ভাবনা কূটনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 




















