ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দল

সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে গণভোটের রায় প্রতিফলনের দাবিতে রাজধানী ঢাকায় বিশাল সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। আগামী শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) গুলশানে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আজাদ এই ঘোষণা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জনরায় উপেক্ষা করে অনেকটা আওয়ামী লীগের দেখানো ফ্যাসিবাদী পথেই হাঁটছে এবং সংসদ পরিচালনায় চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। ১১ দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, সংবিধানের কেবল সংশোধন নয়, বরং আমূল সংস্কার প্রয়োজন এবং দাবি আদায়ে রাজপথের আন্দোলন ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।

এই রাজনৈতিক উত্তাপের সূত্রপাত হয় গত বুধবার সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে, যখন জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, নির্বাচনের আগে গণভোটের রায় নিয়ে যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল, সরকারি দলের কর্মকাণ্ডে তার অবমূল্যায়ন হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই সনদ আদেশ জারি না করা এবং তাকে সংসদে ‘মিসকোড’ করার মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষার অবমাননা করা হয়েছে। স্পিকারের পক্ষ থেকে পরবর্তী মুলতবি প্রস্তাব পর্যন্ত অপেক্ষা করার অনুরোধ জানানো হলেও বিরোধী দলীয় সদস্যরা প্রতিবাদস্বরূপ সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।

শনিবারের এই বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিরোধীদলীয় নেতার মতে, বিষয়টি কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, বরং দেশবাসীর রায়ের প্রতিফলনের প্রশ্ন। ১১ দলীয় ঐক্যের এই কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সংবিধান সংস্কার ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের দাবিতে তারা রাজপথে দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই দাবির বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না আসায় আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল বাড়ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালী থেকে মাইন সরাতে ন্যাটোর সহায়তা পাবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দল

আপডেট সময় : ০৯:৩৯:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে গণভোটের রায় প্রতিফলনের দাবিতে রাজধানী ঢাকায় বিশাল সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। আগামী শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) গুলশানে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আজাদ এই ঘোষণা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জনরায় উপেক্ষা করে অনেকটা আওয়ামী লীগের দেখানো ফ্যাসিবাদী পথেই হাঁটছে এবং সংসদ পরিচালনায় চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। ১১ দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, সংবিধানের কেবল সংশোধন নয়, বরং আমূল সংস্কার প্রয়োজন এবং দাবি আদায়ে রাজপথের আন্দোলন ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।

এই রাজনৈতিক উত্তাপের সূত্রপাত হয় গত বুধবার সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে, যখন জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, নির্বাচনের আগে গণভোটের রায় নিয়ে যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল, সরকারি দলের কর্মকাণ্ডে তার অবমূল্যায়ন হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই সনদ আদেশ জারি না করা এবং তাকে সংসদে ‘মিসকোড’ করার মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষার অবমাননা করা হয়েছে। স্পিকারের পক্ষ থেকে পরবর্তী মুলতবি প্রস্তাব পর্যন্ত অপেক্ষা করার অনুরোধ জানানো হলেও বিরোধী দলীয় সদস্যরা প্রতিবাদস্বরূপ সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।

শনিবারের এই বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিরোধীদলীয় নেতার মতে, বিষয়টি কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, বরং দেশবাসীর রায়ের প্রতিফলনের প্রশ্ন। ১১ দলীয় ঐক্যের এই কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সংবিধান সংস্কার ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের দাবিতে তারা রাজপথে দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই দাবির বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না আসায় আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল বাড়ছে।