ঢাকা ০৮:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

বরিশাল অঞ্চলে তীব্র ডিজেল সংকট: বোরো ক্ষেত শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে, কৃষকরা দিশেহারা

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলাসহ আশপাশের এলাকায় চলতি বোরো মৌসুমে দেখা দিয়েছে তীব্র ডিজেল সংকট। সেচ পাম্প চালাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানির অভাবে হাজার হাজার কৃষক চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারায় অনেক বোরো ধানের ক্ষেত শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে, যা ধান উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রাম সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সেচের অভাবে বিস্তীর্ণ জমিতে ধানের চারা শুকিয়ে যাচ্ছে এবং মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। কৃষকদের মুখে হতাশার স্পষ্ট ছাপ। স্থানীয় কৃষক জাকির ফরাজি জানান, তিনি এক একর জমিতে ইরি-বোরো ধান আবাদ করেছেন। শুরুতে সেচ কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও বর্তমানে ডিজেলের অভাবে পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। এতে তার জমি নষ্ট হওয়ার পথে।

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, “এখন ধানের ফলন আসার সময়। এই সময়ে পানি না দিতে পারলে সব শেষ হয়ে যাবে। কোথাও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক কষ্টে তিন-চার দিনের জন্য ৫-৭ লিটার তেল জোগাড় করছি। এভাবে চললে আমাদের পথে বসা ছাড়া উপায় থাকবে না।” একই গ্রামের আরও কয়েকজন কৃষক জানান, শুধু রাকুদিয়া নয়, আশপাশের অন্তত চার শতাধিক কৃষক একই সমস্যায় ভুগছেন। অনেকেই ধার-দেনা করে চাষ করেছেন, এখন ফসল নষ্ট হলে তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

সেচ পাম্প মালিক ও স্থানীয় জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। তাদের অভিযোগ, ডিপো থেকেই পর্যাপ্ত ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে কৃষকদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলার কামিনী ফিলিং স্টেশনের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রতিদিন ভোর থেকে কৃষকরা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও একজন কৃষককে সর্বোচ্চ ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার তেল দেওয়া যাচ্ছে, যা দিয়ে পুরো জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার তদারকি জোরদার করা হয়েছে। বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা জানান, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং কেউ মজুত বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সূত্রে জানা গেছে, সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

বরিশাল অঞ্চলে তীব্র ডিজেল সংকট: বোরো ক্ষেত শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে, কৃষকরা দিশেহারা

আপডেট সময় : ০৫:৫৬:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলাসহ আশপাশের এলাকায় চলতি বোরো মৌসুমে দেখা দিয়েছে তীব্র ডিজেল সংকট। সেচ পাম্প চালাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানির অভাবে হাজার হাজার কৃষক চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারায় অনেক বোরো ধানের ক্ষেত শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে, যা ধান উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রাম সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সেচের অভাবে বিস্তীর্ণ জমিতে ধানের চারা শুকিয়ে যাচ্ছে এবং মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। কৃষকদের মুখে হতাশার স্পষ্ট ছাপ। স্থানীয় কৃষক জাকির ফরাজি জানান, তিনি এক একর জমিতে ইরি-বোরো ধান আবাদ করেছেন। শুরুতে সেচ কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও বর্তমানে ডিজেলের অভাবে পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। এতে তার জমি নষ্ট হওয়ার পথে।

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, “এখন ধানের ফলন আসার সময়। এই সময়ে পানি না দিতে পারলে সব শেষ হয়ে যাবে। কোথাও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক কষ্টে তিন-চার দিনের জন্য ৫-৭ লিটার তেল জোগাড় করছি। এভাবে চললে আমাদের পথে বসা ছাড়া উপায় থাকবে না।” একই গ্রামের আরও কয়েকজন কৃষক জানান, শুধু রাকুদিয়া নয়, আশপাশের অন্তত চার শতাধিক কৃষক একই সমস্যায় ভুগছেন। অনেকেই ধার-দেনা করে চাষ করেছেন, এখন ফসল নষ্ট হলে তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

সেচ পাম্প মালিক ও স্থানীয় জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। তাদের অভিযোগ, ডিপো থেকেই পর্যাপ্ত ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে কৃষকদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলার কামিনী ফিলিং স্টেশনের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রতিদিন ভোর থেকে কৃষকরা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও একজন কৃষককে সর্বোচ্চ ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার তেল দেওয়া যাচ্ছে, যা দিয়ে পুরো জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার তদারকি জোরদার করা হয়েছে। বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা জানান, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং কেউ মজুত বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সূত্রে জানা গেছে, সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।