বাংলাদেশের ইলেকট্রনিকস ও প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন শিল্প যখন দেশীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই শুল্কনীতির অসামঞ্জস্য এই খাতের বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে ওঠার পরিবর্তে নতুন কিছু শুল্ক কাঠামোর কারণে উল্টো আমদানিনির্ভরতা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সম্ভাবনাময় এই শিল্পকে গভীর সংকটে ফেলেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমদানিতে রহস্যজনকভাবে শুল্ক ছাড় দেওয়া হলেও এসব পণ্য তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে উচ্চ শুল্ক বহাল রাখা হয়েছে। এই শুল্ক বৈষম্য ও সরকারি ক্রয়ে অসামঞ্জস্যের কারণে দেশীয় শিল্পগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের চেয়ে বিদেশ থেকে তৈরি পণ্য আনা এখন অনেক বেশি লাভজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি বৃদ্ধির জাতীয় লক্ষ্যমাত্রাও ব্যাহত হতে পারে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ইলেকট্রনিকস ও আইসিটি পণ্যের বাজার দ্রুত বড় হচ্ছে। ২০২৬ সাল নাগাদ এই বাজারের আকার ৯ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে এবং ২০৩০ সাল নাগাদ তা ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বর্তমানে দেশের রেফ্রিজারেটর চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ এবং এসি ও স্মার্টফোন বাজারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর দখলে। এমনকি ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারেও বাংলাদেশে তৈরি ইলেকট্রনিকস পণ্য রপ্তানি হচ্ছে, যা গত অর্থবছরে এক বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাম্প্রতিক সংশোধিত প্রজ্ঞাপন (এসআরও নং-২৭৪) দেশীয় শিল্পের জন্য প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রেফ্রিজারেটর ও এসির এমন কিছু যন্ত্রাংশ আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে দেশেই মানসম্মতভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। অথচ এসব যন্ত্রাংশ তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে উদ্যোক্তাদের ১৫ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ শুল্ক দিতে হচ্ছে। ফলে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পগুলো এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে দেশে সেমি-ফিনিশড গুডস (এসএফজি) প্রক্রিয়াকরণে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। এছাড়া প্লাস্টিক শিল্প খাতের ছয় হাজার কারখানায় প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। নীতিগত সহায়তা না পেলে এই বিশাল বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 






















