ঢাকা ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

টানা ৮ মাস ধরে কমছে রপ্তানি আয়: সংকটে দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৭:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয়ে টানা অষ্টম মাসের মতো নেতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮.০৭ শতাংশ কমে ৩.৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৫.৩৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪.৮৫ শতাংশ কম। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশ অবদান রাখা তৈরি পোশাক খাতের আয় ৫.৫১ শতাংশ কমে ২৮.৫৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে পোশাক পণ্যের চাহিদা হ্রাস এবং ক্রয়াদেশ কমে যাওয়াই এই ধারাবাহিক পতনের মূল কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রপ্তানি আয়ে এই ধসের পেছনে অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক বহুমুখী সংকটের ‘ডমিনো ইফেক্ট’ কাজ করছে বলে অভিমত দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন জানান, প্রধান রপ্তানি গন্তব্য দেশগুলোতে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে, যার ফলে বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার কমিয়ে দিচ্ছেন। এছাড়া বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম উল্লেখ করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে দেশে ডিজেল সংকটের ফলে কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা রপ্তানি সক্ষমতাকে সরাসরি আঘাত করছে।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শুধু মার্চ মাসেই তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় আগের বছরের তুলনায় ১৯.৩৫ শতাংশ কমেছে। নিটওয়্যার ও ওভেন—উভয় উপখাতেই এই পতন লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া কৃষি পণ্য ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিও নেতিবাচক ধারায় রয়েছে। তবে এই সংকটের মধ্যেও চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য (৩.১৫% বৃদ্ধি) এবং প্রকৌশল পণ্য (১৭.৩৮% বৃদ্ধি) খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা সামগ্রিক রপ্তানি খাতে কিছুটা ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করছে। রপ্তানিকারকরা বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহে অগ্রাধিকার এবং সরকারকে দ্রুত নীতিগত সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালী থেকে মাইন সরাতে ন্যাটোর সহায়তা পাবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

টানা ৮ মাস ধরে কমছে রপ্তানি আয়: সংকটে দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত

আপডেট সময় : ১০:২৭:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয়ে টানা অষ্টম মাসের মতো নেতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮.০৭ শতাংশ কমে ৩.৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৫.৩৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪.৮৫ শতাংশ কম। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশ অবদান রাখা তৈরি পোশাক খাতের আয় ৫.৫১ শতাংশ কমে ২৮.৫৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে পোশাক পণ্যের চাহিদা হ্রাস এবং ক্রয়াদেশ কমে যাওয়াই এই ধারাবাহিক পতনের মূল কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রপ্তানি আয়ে এই ধসের পেছনে অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক বহুমুখী সংকটের ‘ডমিনো ইফেক্ট’ কাজ করছে বলে অভিমত দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন জানান, প্রধান রপ্তানি গন্তব্য দেশগুলোতে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে, যার ফলে বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার কমিয়ে দিচ্ছেন। এছাড়া বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম উল্লেখ করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে দেশে ডিজেল সংকটের ফলে কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা রপ্তানি সক্ষমতাকে সরাসরি আঘাত করছে।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শুধু মার্চ মাসেই তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় আগের বছরের তুলনায় ১৯.৩৫ শতাংশ কমেছে। নিটওয়্যার ও ওভেন—উভয় উপখাতেই এই পতন লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া কৃষি পণ্য ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিও নেতিবাচক ধারায় রয়েছে। তবে এই সংকটের মধ্যেও চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য (৩.১৫% বৃদ্ধি) এবং প্রকৌশল পণ্য (১৭.৩৮% বৃদ্ধি) খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা সামগ্রিক রপ্তানি খাতে কিছুটা ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করছে। রপ্তানিকারকরা বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহে অগ্রাধিকার এবং সরকারকে দ্রুত নীতিগত সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন।