ঢাকা ০৫:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

রপ্তানি আয়ে ধস: মার্চে ১৮ শতাংশের বেশি কমেছে আয়, উদ্বেগজনক পরিস্থিতি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০১:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের রপ্তানি আয় টানা আট মাস ধরে নিম্নমুখী থাকার পর মার্চ মাসেও বড় ধরনের পতন হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত মাসে রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ কম। গত বছর মার্চ মাসে এই আয় ছিল ৪ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) দেশের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩৭ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এই নয় মাসে সামগ্রিক রপ্তানি আয় ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ কমেছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি ধারাবাহিক দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করছে।

দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পও এই নেতিবাচক প্রবণতার বাইরে নয়। এই নয় মাসে তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ কমে ২৮ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে আয় ছিল ৩০ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার। যেহেতু দেশের মোট রপ্তানি আয়ের একটি বড় অংশ তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে, তাই এই খাতের ধীরগতি সামগ্রিক রপ্তানি আয়েও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

ইপিবির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের অধিকাংশ প্রধান রপ্তানি খাতেই প্রবৃদ্ধি কমেছে। তবে, হিমায়িত ও জীবিত মাছ, চামড়া এবং প্রকৌশল পণ্য খাত কিছুটা ইতিবাচক অবস্থানে থাকলেও তা সামগ্রিক পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে যথেষ্ট নয়।

রপ্তানি খাতে এই চাপের পেছনে বৈশ্বিক নানা কারণকে দায়ী করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান সংশ্লিষ্ট উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে, যার প্রভাব আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পড়ছে। একই সঙ্গে, দীর্ঘস্থায়ী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি বাড়িয়েছে, ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো বড় বাজারগুলোতে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে রপ্তানি আদেশ স্থগিত বা বাতিল হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের রপ্তানি খাতে চাপ আরও বাড়তে পারে।

উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের শুরুতেই জুলাই মাসে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও পরবর্তী মাসগুলোতে ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতন্ত্র ও আওয়ামী লীগ একসাথে চলেনি: মির্জা ফখরুল

রপ্তানি আয়ে ধস: মার্চে ১৮ শতাংশের বেশি কমেছে আয়, উদ্বেগজনক পরিস্থিতি

আপডেট সময় : ১২:০১:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের রপ্তানি আয় টানা আট মাস ধরে নিম্নমুখী থাকার পর মার্চ মাসেও বড় ধরনের পতন হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত মাসে রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ কম। গত বছর মার্চ মাসে এই আয় ছিল ৪ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) দেশের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩৭ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এই নয় মাসে সামগ্রিক রপ্তানি আয় ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ কমেছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি ধারাবাহিক দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করছে।

দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পও এই নেতিবাচক প্রবণতার বাইরে নয়। এই নয় মাসে তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ কমে ২৮ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে আয় ছিল ৩০ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার। যেহেতু দেশের মোট রপ্তানি আয়ের একটি বড় অংশ তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে, তাই এই খাতের ধীরগতি সামগ্রিক রপ্তানি আয়েও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

ইপিবির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের অধিকাংশ প্রধান রপ্তানি খাতেই প্রবৃদ্ধি কমেছে। তবে, হিমায়িত ও জীবিত মাছ, চামড়া এবং প্রকৌশল পণ্য খাত কিছুটা ইতিবাচক অবস্থানে থাকলেও তা সামগ্রিক পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে যথেষ্ট নয়।

রপ্তানি খাতে এই চাপের পেছনে বৈশ্বিক নানা কারণকে দায়ী করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান সংশ্লিষ্ট উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে, যার প্রভাব আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পড়ছে। একই সঙ্গে, দীর্ঘস্থায়ী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি বাড়িয়েছে, ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো বড় বাজারগুলোতে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে রপ্তানি আদেশ স্থগিত বা বাতিল হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের রপ্তানি খাতে চাপ আরও বাড়তে পারে।

উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের শুরুতেই জুলাই মাসে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও পরবর্তী মাসগুলোতে ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।