বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী আখ্যা দিয়ে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্ণেল বাদী হয়ে চৌহালী উপজেলা আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার শুনানি শেষে বিচারক মো. সুমন ভুইয়া সংসদ সদস্য আমির হামজাকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেছেন। এর আগে গত সোমবার (৩০ মার্চ) সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে আমির হামজার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সিরাজগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে ১০০ কোটি টাকা মানহানির মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ডিবি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।
বাদী হুমায়ন কবির কর্নেল জানান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু তাদের প্রাণের স্পন্দন এবং সিরাজগঞ্জের কৃতি সন্তান। তিনি তার নিজ গ্রামে মায়ের নামে একটি মাদ্রাসা স্থাপন করেছেন এবং একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। মুফতি আমির হামজার টুকু ভাইকে নাস্তিক বলার বিষয়টি তারা মেনে নিতে পারেননি এবং এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি বলেন, টাকা দিয়ে মান হয় না, তাই মামলায় টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। তিনি আমির হামজাকে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ও সিরাজগঞ্জ জেলা দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট রফিক সরকার বলেন, টুকু ভাই একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান এবং আমির হামজা তাকে নাস্তিক বলে বক্তব্য দিয়েছেন, যা তাদের ক্ষুব্ধ করেছে। তিনি জানান, আমির হামজার রেকর্ডকৃত বক্তব্য পেনড্রাইভে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে আমির হামজাকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেছেন।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, টুকু ভাইয়ের বাবা পাকিস্তান আমলে শিল্পমন্ত্রী ছিলেন এবং সিরাজগঞ্জে তাদের অনেক অবদান রয়েছে। আমির হামজার বক্তব্যে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী ক্ষুব্ধ হয়েছে। তিনি শুনেছেন যে মুফতি আমির হামজা সংসদ ভবনে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন, কিন্তু তারা চান তিনি জনসম্মুখে এসে ক্ষমা প্রার্থনা করুক।
রিপোর্টারের নাম 

























