ঢাকা ০১:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

শারমিন হত্যার ন্যায়বিচারের দাবিতে উত্তাল জাহাঙ্গীরনগর, শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ও মৌন মিছিল

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) লোক-প্রশাসন বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শারমিন জাহান খাদিজার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও মৌন মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে ভাস্কর্যের সামনে শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে এক শোকাবহ মৌন মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শিক্ষার্থীরা শারমিনের ন্যায়বিচার দাবি করেন।

মিছিলে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের হাতে শোভা পায় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড, যেখানে JUSTICE for Sharmin, ‘বিচার চাই, বিচার চাই, শারমিন হত্যার বিচার চাই’, ‘জাগো জাগো, ভয় কিসের? বিচার চাই শারমিনের’, ‘রক্ত ঝরেছে-থামবো না! বিচার ছাড়া-যাবো না’, ‘হাতে হাত, কণ্ঠ এক-বিচার চাই, নেই কোন ফেক’, এবং ‘শারমিন ডাকে-শুনো সবাই! ন্যায়ের পথে এগিয়ে যাই’ -এর মতো স্লোগান লেখা ছিল।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। তারা বলেন, এই ধরনের নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। নিহত শারমিন জাহানের মা ফরিদা ইয়াসমিন কান্নাভেজা কণ্ঠে মেয়ের উপর হওয়া নৃশংসতার বিচার চেয়ে বলেন, ‘আমার মেয়েটাকে যে মারলো বা যারা মারলো, তাদের শাস্তি ও সুষ্ঠু বিচার যেন আমি পাই, এটাই আমার একমাত্র চাওয়া।’

জাকসু সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শারমিন জাহান তার ভাড়াটিয়া বাসায় স্বামী কর্তৃক নৃশংসভাবে খুন হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের যথেষ্ট আলামত থাকা সত্ত্বেও তার স্বামী ফাহিম ছলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছেন এবং বারবার জবানবন্দি পরিবর্তন করছেন। আমরা এই মামলার উপর অত্যন্ত তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখছি। এই মানববন্ধন থেকে আমরা স্পষ্টভাবে বার্তা দিতে চাই যে, কোনো প্রকার বাহ্যিক হস্তক্ষেপ যেন এই মামলাকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সে ব্যাপারে আমরা সচেষ্ট থাকবো। মামলার কোনো প্রকার ব্যত্যয় ঘটলে আমরা আরো কঠোর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবো।’ লোক-প্রশাসন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হরে কৃষ্ণ কুন্ডুও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার উপর জোর দেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতায় সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ধান কাটা নিয়ে কৃষকদের অনিশ্চয়তা

শারমিন হত্যার ন্যায়বিচারের দাবিতে উত্তাল জাহাঙ্গীরনগর, শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ও মৌন মিছিল

আপডেট সময় : ০৯:৪৪:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) লোক-প্রশাসন বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শারমিন জাহান খাদিজার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও মৌন মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে ভাস্কর্যের সামনে শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে এক শোকাবহ মৌন মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শিক্ষার্থীরা শারমিনের ন্যায়বিচার দাবি করেন।

মিছিলে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের হাতে শোভা পায় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড, যেখানে JUSTICE for Sharmin, ‘বিচার চাই, বিচার চাই, শারমিন হত্যার বিচার চাই’, ‘জাগো জাগো, ভয় কিসের? বিচার চাই শারমিনের’, ‘রক্ত ঝরেছে-থামবো না! বিচার ছাড়া-যাবো না’, ‘হাতে হাত, কণ্ঠ এক-বিচার চাই, নেই কোন ফেক’, এবং ‘শারমিন ডাকে-শুনো সবাই! ন্যায়ের পথে এগিয়ে যাই’ -এর মতো স্লোগান লেখা ছিল।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। তারা বলেন, এই ধরনের নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। নিহত শারমিন জাহানের মা ফরিদা ইয়াসমিন কান্নাভেজা কণ্ঠে মেয়ের উপর হওয়া নৃশংসতার বিচার চেয়ে বলেন, ‘আমার মেয়েটাকে যে মারলো বা যারা মারলো, তাদের শাস্তি ও সুষ্ঠু বিচার যেন আমি পাই, এটাই আমার একমাত্র চাওয়া।’

জাকসু সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শারমিন জাহান তার ভাড়াটিয়া বাসায় স্বামী কর্তৃক নৃশংসভাবে খুন হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের যথেষ্ট আলামত থাকা সত্ত্বেও তার স্বামী ফাহিম ছলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছেন এবং বারবার জবানবন্দি পরিবর্তন করছেন। আমরা এই মামলার উপর অত্যন্ত তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখছি। এই মানববন্ধন থেকে আমরা স্পষ্টভাবে বার্তা দিতে চাই যে, কোনো প্রকার বাহ্যিক হস্তক্ষেপ যেন এই মামলাকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সে ব্যাপারে আমরা সচেষ্ট থাকবো। মামলার কোনো প্রকার ব্যত্যয় ঘটলে আমরা আরো কঠোর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবো।’ লোক-প্রশাসন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হরে কৃষ্ণ কুন্ডুও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার উপর জোর দেন।