ঢাকা ১২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

গণভোট উপেক্ষা করলে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে: আ স ম রব

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের রায় উপেক্ষা করলে তা বিপজ্জনক পরিস্থিতির জন্ম দেবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, রক্তাক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে গণভোটের যে অঙ্গীকার ছিল, তা ছিল সুনির্দিষ্ট এবং সকল রাজনৈতিক দল কর্তৃক সমর্থিত। বুধবার গণমাধ্যমকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

আ স ম রব আরও বলেন, এই গণঅভ্যুত্থান কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতার উৎস পুনর্নির্ধারণের এক ঐতিহাসিক প্রয়াস। এটি কোনো সাধারণ কৌশলগত ঘটনা ছিল না; বরং ছিল ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রতি একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। আজ সেই অবস্থান থেকে বিচ্যুতি কেবল নিছক মতপার্থক্য নয়, বরং এটি জনগণের সঙ্গে সম্পাদিত ‘সামাজিক চুক্তি’র (Social Contract) চরম অবমাননা হিসেবে গণ্য হবে।

তিনি বলেন, নতুন ধারার রাজনীতির দৃষ্টিতে রাষ্ট্রের বৈধতা জনগণের সরাসরি সম্মতি ও অংশগ্রহণ থেকেই উদ্ভূত হয়। সেই অর্থে জাতীয় সনদ কেবল একটি নীতিপত্র নয়—এটি শ্রমজীবী, কর্মজীবী ও পেশাজীবী জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ঐতিহাসিক বাস্তবতায় জাতীয় সনদ হলো গণ-আকাঙ্ক্ষার দর্পণ। এর চূড়ান্ত ও নৈতিক বৈধতা কেবল জনগণের সরাসরি রায় থেকেই আসতে পারে, অন্য কোনো প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কখনোই এই জনসম্মতির বিকল্প হতে পারে না। অতএব, গণভোটকে পাশ কাটিয়ে বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় সনদ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হলে তা অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের ধারণার পরিপন্থী হবে এবং অভ্যন্তরীণ পরাধীনতার ধারাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে।

জেএসডির সভাপতি আরও বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার যদি গণভোটের রায়ের বাধ্যবাধকতাকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বা ভিন্ন কোনো অজুহাতে তা স্থগিত করে, তবে তা অনিবার্যভাবে গভীর ‘জন-আস্থার সংকট’ তৈরি করবে। জাতির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে—অদলীয় সমাজশক্তির সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া যেমন ফ্যাসিবাদ উৎখাত সম্ভব নয়, তেমনি একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার টেকসই ভিত্তিও গড়ে ওঠে না; এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করা মানে গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকেই অস্বীকার করা।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রে ক্ষমতার একমাত্র উৎস জনগণ। জনমতকে পাশ কাটিয়ে বা জনগণকে আড়ালে রেখে কোনো স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব নয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিলে সংসদের সিলমোহর: রাজপথে নয়, লড়াই এবার উচ্চ আদালতে?

গণভোট উপেক্ষা করলে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে: আ স ম রব

আপডেট সময় : ০৯:৩১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের রায় উপেক্ষা করলে তা বিপজ্জনক পরিস্থিতির জন্ম দেবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, রক্তাক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে গণভোটের যে অঙ্গীকার ছিল, তা ছিল সুনির্দিষ্ট এবং সকল রাজনৈতিক দল কর্তৃক সমর্থিত। বুধবার গণমাধ্যমকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

আ স ম রব আরও বলেন, এই গণঅভ্যুত্থান কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতার উৎস পুনর্নির্ধারণের এক ঐতিহাসিক প্রয়াস। এটি কোনো সাধারণ কৌশলগত ঘটনা ছিল না; বরং ছিল ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রতি একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। আজ সেই অবস্থান থেকে বিচ্যুতি কেবল নিছক মতপার্থক্য নয়, বরং এটি জনগণের সঙ্গে সম্পাদিত ‘সামাজিক চুক্তি’র (Social Contract) চরম অবমাননা হিসেবে গণ্য হবে।

তিনি বলেন, নতুন ধারার রাজনীতির দৃষ্টিতে রাষ্ট্রের বৈধতা জনগণের সরাসরি সম্মতি ও অংশগ্রহণ থেকেই উদ্ভূত হয়। সেই অর্থে জাতীয় সনদ কেবল একটি নীতিপত্র নয়—এটি শ্রমজীবী, কর্মজীবী ও পেশাজীবী জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ঐতিহাসিক বাস্তবতায় জাতীয় সনদ হলো গণ-আকাঙ্ক্ষার দর্পণ। এর চূড়ান্ত ও নৈতিক বৈধতা কেবল জনগণের সরাসরি রায় থেকেই আসতে পারে, অন্য কোনো প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কখনোই এই জনসম্মতির বিকল্প হতে পারে না। অতএব, গণভোটকে পাশ কাটিয়ে বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় সনদ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হলে তা অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের ধারণার পরিপন্থী হবে এবং অভ্যন্তরীণ পরাধীনতার ধারাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে।

জেএসডির সভাপতি আরও বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার যদি গণভোটের রায়ের বাধ্যবাধকতাকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বা ভিন্ন কোনো অজুহাতে তা স্থগিত করে, তবে তা অনিবার্যভাবে গভীর ‘জন-আস্থার সংকট’ তৈরি করবে। জাতির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে—অদলীয় সমাজশক্তির সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া যেমন ফ্যাসিবাদ উৎখাত সম্ভব নয়, তেমনি একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার টেকসই ভিত্তিও গড়ে ওঠে না; এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করা মানে গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকেই অস্বীকার করা।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রে ক্ষমতার একমাত্র উৎস জনগণ। জনমতকে পাশ কাটিয়ে বা জনগণকে আড়ালে রেখে কোনো স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব নয়।