ঢাকা ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

প্রধান শিক্ষিকাকে মারধর ও হত্যাচেষ্টায় অভিযুক্ত যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা, দল থেকে শোকজ

কুমিল্লায় জালিয়াতি করে চাকরি নিয়ে বরখাস্ত হওয়া এক আওয়ামী লীগ নেতা সম্প্রতি কর্মস্থলে ফিরে প্রধান শিক্ষিকাকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষিকা হাসিনা ইসলাম অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম সুজন এবং তাকে সহায়তাকারী তার চাচাতো ভাই ও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব সোহেল রানার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। একই ঘটনায় সোহেল রানাকে দল থেকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিস দেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার রাতে ১১ জনের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষিকা হাসিনা ইসলাম। অন্যদিকে, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব স্বাক্ষরিত এক নোটিসে সোহেল রানাকে সংগঠনের নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ড ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আগামী তিন দিনের মধ্যে লিখিত জবাব জমা দিতে বলা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত রোববার ব্রাহ্মণপাড়ার বেড়াখলা আব্দুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হাসিনা ইসলামকে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ থেকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে এনে মারধর ও লাথি মেরে হত্যার চেষ্টা করেন বরখাস্ত প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম সুজন। এ সময় তার চাচাতো ভাই ও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা অর্ধশতাধিক দলীয় কর্মী নিয়ে হামলায় অংশ নেন।

জানা গেছে, আমিনুল ইসলাম সুজন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জাল সনদে প্রধান শিক্ষক হয়েছিলেন। পরে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতার জোরে পাঁচ বছরের ছুটি নেন এবং বিদ্যালয় এমপিওভুক্ত হওয়ার পর উভয় স্থান থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন। ভুয়া রেজল্যুশন এবং ডিজির স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে ২০১৯ সালে তিনি চাকরি থেকে বরখাস্ত হন। সম্প্রতি তিনি আদালত থেকে তার পক্ষে রায় এসেছে দাবি করে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে আবার কর্মস্থলে ফেরেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মায়ের পাতে কতটা খাবার? উপেক্ষিত পুষ্টি ও নীরব আত্মত্যাগের চিত্র

প্রধান শিক্ষিকাকে মারধর ও হত্যাচেষ্টায় অভিযুক্ত যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা, দল থেকে শোকজ

আপডেট সময় : ০৮:৪৭:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

কুমিল্লায় জালিয়াতি করে চাকরি নিয়ে বরখাস্ত হওয়া এক আওয়ামী লীগ নেতা সম্প্রতি কর্মস্থলে ফিরে প্রধান শিক্ষিকাকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষিকা হাসিনা ইসলাম অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম সুজন এবং তাকে সহায়তাকারী তার চাচাতো ভাই ও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব সোহেল রানার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। একই ঘটনায় সোহেল রানাকে দল থেকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিস দেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার রাতে ১১ জনের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষিকা হাসিনা ইসলাম। অন্যদিকে, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব স্বাক্ষরিত এক নোটিসে সোহেল রানাকে সংগঠনের নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ড ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আগামী তিন দিনের মধ্যে লিখিত জবাব জমা দিতে বলা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত রোববার ব্রাহ্মণপাড়ার বেড়াখলা আব্দুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হাসিনা ইসলামকে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ থেকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে এনে মারধর ও লাথি মেরে হত্যার চেষ্টা করেন বরখাস্ত প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম সুজন। এ সময় তার চাচাতো ভাই ও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা অর্ধশতাধিক দলীয় কর্মী নিয়ে হামলায় অংশ নেন।

জানা গেছে, আমিনুল ইসলাম সুজন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জাল সনদে প্রধান শিক্ষক হয়েছিলেন। পরে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতার জোরে পাঁচ বছরের ছুটি নেন এবং বিদ্যালয় এমপিওভুক্ত হওয়ার পর উভয় স্থান থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন। ভুয়া রেজল্যুশন এবং ডিজির স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে ২০১৯ সালে তিনি চাকরি থেকে বরখাস্ত হন। সম্প্রতি তিনি আদালত থেকে তার পক্ষে রায় এসেছে দাবি করে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে আবার কর্মস্থলে ফেরেন।