ঢাকা ০২:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

সংবিধানের আলোকে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশে থাকার কথা ছিল: জামায়াত নেতা

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, দেশের সংবিধান রক্ষা করতে গেলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে এখন বিদেশে থাকতে হতো। পটুয়াখালী-২ আসনের এই সংসদ সদস্য সোমবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এই মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, ‘৭২ সালের সংবিধানের আলোকে আজকে আমাদের এখানে থাকার কথা নয়। প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশে থাকার কথা না, দেশের বাইরে থাকার কথা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও এখন দেশের বাইরে থাকার কথা।’ তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, গণভোটকে অস্বীকার করা হলে সমগ্র বাংলাদেশ আবার জেগে উঠে গণভোট কার্যকর করবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, বিগত সতেরো বছর ধরে কোনো বৈষম্যের মধ্যে পড়ে যাচ্ছি কিনা, তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। তিনি জানতে চান, এই সরকার প্রতিষ্ঠার পর শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারে কতটা কার্যকারিতা আনা হয়েছে। সরকারি দলের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমরা সংবিধান নিয়ে এত ঘাটাঘাটি করতে করতে… সংবিধান যদি আমাদের সেদিন রক্ষা করতে পারত, তাহলে বালুর ট্রাক সরানোর জন্য আমাদের সংবিধানের পৃষ্ঠা খুঁজতে হতো না। সংবিধান যদি আমাদের রক্ষা করতে পারত, তবে ৭২ সালের সংবিধানের আলোকে আমাদের এই সংসদে নয়, বরং জেলাখানায় থাকার কথা ছিল। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে থাকার কথা না, দেশের বাইরে থাকার কথা। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও এখন দেশের বাইরে থাকার কথা।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধান মানতে হলে যে বাচ্চাদেরকে আজকে এখানে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, দীক্ষা দেওয়া হচ্ছে কিংবা তাদেরকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জাসদের সাথে তুলনা করা হচ্ছে- সেই বাচ্চাদের নিয়ে আমরা এই সরকার দলের লোকদেরকে, সরকার দলের সম্মানিত নেতৃবৃন্দকে আমরা চোখের পানিও ফেলতে দেখেছি। আবার কাউকে কাউকে এ কথা বলতেও শুনেছি যে এই সমস্ত বাচ্চাদের বা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক ছিল না।’ তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন করে গণভোটের ন্যায্যতা-অন্যায্যতা শেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। তিনি উল্লেখ করেন, যখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিবকে কয়েক হাজার পুলিশের বেষ্টনীর মাঝে একা একটি মোবাইল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছেন, তখন সংবিধান তাদের রক্ষা করতে পারেনি। তার নিজের জামিন পেতে সাত মাস এবং মুক্তি পেতে সাড়ে চার বছর সময় লেগেছে বলেও তিনি জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লিজেন্ডারি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলেকে শেষ বিদায়

সংবিধানের আলোকে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশে থাকার কথা ছিল: জামায়াত নেতা

আপডেট সময় : ১০:০১:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, দেশের সংবিধান রক্ষা করতে গেলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে এখন বিদেশে থাকতে হতো। পটুয়াখালী-২ আসনের এই সংসদ সদস্য সোমবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এই মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, ‘৭২ সালের সংবিধানের আলোকে আজকে আমাদের এখানে থাকার কথা নয়। প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশে থাকার কথা না, দেশের বাইরে থাকার কথা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও এখন দেশের বাইরে থাকার কথা।’ তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, গণভোটকে অস্বীকার করা হলে সমগ্র বাংলাদেশ আবার জেগে উঠে গণভোট কার্যকর করবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, বিগত সতেরো বছর ধরে কোনো বৈষম্যের মধ্যে পড়ে যাচ্ছি কিনা, তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। তিনি জানতে চান, এই সরকার প্রতিষ্ঠার পর শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারে কতটা কার্যকারিতা আনা হয়েছে। সরকারি দলের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমরা সংবিধান নিয়ে এত ঘাটাঘাটি করতে করতে… সংবিধান যদি আমাদের সেদিন রক্ষা করতে পারত, তাহলে বালুর ট্রাক সরানোর জন্য আমাদের সংবিধানের পৃষ্ঠা খুঁজতে হতো না। সংবিধান যদি আমাদের রক্ষা করতে পারত, তবে ৭২ সালের সংবিধানের আলোকে আমাদের এই সংসদে নয়, বরং জেলাখানায় থাকার কথা ছিল। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে থাকার কথা না, দেশের বাইরে থাকার কথা। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও এখন দেশের বাইরে থাকার কথা।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধান মানতে হলে যে বাচ্চাদেরকে আজকে এখানে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, দীক্ষা দেওয়া হচ্ছে কিংবা তাদেরকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জাসদের সাথে তুলনা করা হচ্ছে- সেই বাচ্চাদের নিয়ে আমরা এই সরকার দলের লোকদেরকে, সরকার দলের সম্মানিত নেতৃবৃন্দকে আমরা চোখের পানিও ফেলতে দেখেছি। আবার কাউকে কাউকে এ কথা বলতেও শুনেছি যে এই সমস্ত বাচ্চাদের বা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক ছিল না।’ তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন করে গণভোটের ন্যায্যতা-অন্যায্যতা শেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। তিনি উল্লেখ করেন, যখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিবকে কয়েক হাজার পুলিশের বেষ্টনীর মাঝে একা একটি মোবাইল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছেন, তখন সংবিধান তাদের রক্ষা করতে পারেনি। তার নিজের জামিন পেতে সাত মাস এবং মুক্তি পেতে সাড়ে চার বছর সময় লেগেছে বলেও তিনি জানান।