ঢাকা ০১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার: উদ্বেগ প্রকাশ মন্ত্রীর

দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে এক উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, কিছু অসাধু চক্র সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল পাচার করছে। সোমবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার প্রবণতা দেশে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। তবে, জ্বালানির সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সরকার সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বর্তমানে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। বরং, গত বছরের তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান যে, দেশে বর্তমানে দুই লক্ষ আঠারো হাজার মেট্রিক টন ডিজেল মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও স্বাভাবিক। জ্বালানির সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে আগামী এপ্রিলে পঞ্চাশ হাজার মেট্রিক টন অকটেন আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, দেশীয় উৎস থেকে আরও ত্রিশ হাজার টন অকটেন পাওয়া যাবে, যা আরও দুই মাসের চাহিদা মেটাবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত বছরের তুলনায় তেল সরবরাহের এই অস্বাভাবিক ব্যবধান প্রমাণ করে যে, জ্বালানির ঘাটতির চেয়ে জ্বালানি মজুতের মানসিকতা এখন একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, পর্যাপ্ত সরবরাহ ও প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও যদি মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি কিনে মজুত করে, তবে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া অবশ্যম্ভাবী। বৈশ্বিক সংকট সত্ত্বেও সরকারি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়নি এবং জনগণের স্বার্থে সরকার ভর্তুকি বহন করছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। তাই, প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি কেনা থেকে বিরত থাকা এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানির অপচয় রোধ করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। মন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বলেন যে, কোনো বৈশ্বিক সংকটই বাংলাদেশের মনোবল ভেঙে দিতে পারবে না এবং ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনো সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ: একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ

সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার: উদ্বেগ প্রকাশ মন্ত্রীর

আপডেট সময় : ১০:০১:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে এক উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, কিছু অসাধু চক্র সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল পাচার করছে। সোমবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার প্রবণতা দেশে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। তবে, জ্বালানির সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সরকার সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বর্তমানে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। বরং, গত বছরের তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান যে, দেশে বর্তমানে দুই লক্ষ আঠারো হাজার মেট্রিক টন ডিজেল মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও স্বাভাবিক। জ্বালানির সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে আগামী এপ্রিলে পঞ্চাশ হাজার মেট্রিক টন অকটেন আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, দেশীয় উৎস থেকে আরও ত্রিশ হাজার টন অকটেন পাওয়া যাবে, যা আরও দুই মাসের চাহিদা মেটাবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত বছরের তুলনায় তেল সরবরাহের এই অস্বাভাবিক ব্যবধান প্রমাণ করে যে, জ্বালানির ঘাটতির চেয়ে জ্বালানি মজুতের মানসিকতা এখন একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, পর্যাপ্ত সরবরাহ ও প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও যদি মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি কিনে মজুত করে, তবে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া অবশ্যম্ভাবী। বৈশ্বিক সংকট সত্ত্বেও সরকারি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়নি এবং জনগণের স্বার্থে সরকার ভর্তুকি বহন করছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। তাই, প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি কেনা থেকে বিরত থাকা এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানির অপচয় রোধ করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। মন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বলেন যে, কোনো বৈশ্বিক সংকটই বাংলাদেশের মনোবল ভেঙে দিতে পারবে না এবং ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনো সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব।