মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দিনব্যাপী এক চতুর্পাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বৈঠকটি সংঘাত অবসানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল-এর মধ্যেকার সংঘাতের অবসানে একটি কূটনৈতিক পথ খুঁজে বের করা। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তান এই সংকট নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পাকিস্তানের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ বার্তা আদান-প্রদান চলছে, যেখানে তুরস্ক ও মিশরও সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
বৈঠকে অংশ নিতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি একদিন আগেই ইসলামাবাদে পৌঁছান। এছাড়া সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ-ও ইতিমধ্যে যোগ দিয়েছেন।
উচ্চপর্যায়ে কূটনৈতিক যোগাযোগও জোরদার হয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ হয়েছে বলে হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে। একইসঙ্গে পাকিস্তান ইরানের কাছে একটি মার্কিন প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েছে। তবে, ইরান সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে যে তারা নিজেদের শর্তে এবং নির্ধারিত সময়ে যুদ্ধের সমাপ্তি চায়।
ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ অবসানে পাঁচটি শর্তও উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— আগ্রাসন ও গুপ্তহত্যা বন্ধ, ভবিষ্যতে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া প্রতিরোধ, ক্ষতিপূরণের নিশ্চয়তা, সব পক্ষের মধ্যে সমন্বিত সমাধান এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-এর সঙ্গে দীর্ঘ টেলিফোন আলাপ করেছেন। আলোচনায় তিনি ইরানের ওপর ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানান এবং উত্তেজনা প্রশমনে সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানও আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে আস্থা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসলামাবাদের এই বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় নতুন আশার সঞ্চার করতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 

























