ঢাকা ০৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের টিকে থাকা ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ: জয়ের পথে ইসলামিক রিপাবলিক

পশ্চিমা বিশ্বের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানের ইসলামিক রিপাবলিককে দুর্বল করার নানা চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তবে বিভিন্ন বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বর্তমান নেতৃত্ব এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টিকে থাকার পথে এগোচ্ছে। চারটি প্রধান কারণ এই যুদ্ধের ময়দানে ইরানকে জয়ের পথে এগিয়ে রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রথমত, যেকোনো মূল্যে নিজেদের শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখাই ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় বিজয়। তাদের নেতৃত্বাধীন সরকার এখনো ভেঙে পড়েনি, বরং রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দেশটির ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যদি না লাখো মার্কিন সেনা সরাসরি ইরানে স্থল অভিযান না চালায়, তবে গণঅভ্যুত্থান ছাড়া এই শাসনের পতন সম্ভব নয়। এমনকি নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্পও এখন ইরানের পতন ঘটানোর চেয়ে পর্দার আড়ালে একটি চুক্তির পথ খুঁজছেন। কারণ ইরান টিকে থাকলে তা তাদের জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে গণ্য হবে।

দ্বিতীয়ত, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকা তাদের দ্বিতীয় প্রধান শক্তি। এই প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সমুদ্রপথে সরবরাহ করা হয়। ইরান এই সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য হচ্ছে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানকে যুদ্ধের ময়দানে দর কষাকষির একটি বড় হাতিয়ার এনে দিয়েছে।

তৃতীয়ত, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ইরানকে নতুন আয়ের উৎস করে দিয়েছে। তারা এখন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে। চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো তাদের তেলবাহী জাহাজ পার করার জন্য ইরানকে মোটা অঙ্কের ফি দিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন এখন হরমুজ প্রণালি ‘যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ’ করার প্রস্তাব দিচ্ছে। এটি ইরানের জন্য একটি অভাবনীয় সুযোগ তৈরি করেছে। যে প্রণালি দিয়ে আগে ইরান কোনো অর্থ আয় করত না, এখন সেখান থেকে তারা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বিশাল রাজস্ব আয়ের স্বপ্ন দেখছে।

চতুর্থত, যদি ইরান এই যুদ্ধে টিকে থাকে এবং হরমুজ প্রণালি থেকে নতুন করে অর্থ উপার্জন করতে পারে, তবে সেই অর্থ দিয়ে তারা ধ্বংস হয়ে যাওয়া ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতা পুনরায় তৈরি করতে পারবে। এই সক্ষমতা ফিরে পেতে হয়তো কয়েক বছর সময় লাগবে, এবং ততদিনে ট্রাম্প বা নেতানিয়াহু ক্ষমতায় নাও থাকতে পারেন। এর ফলে ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিংড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই কৃষকের মৃত্যু

ইরানের টিকে থাকা ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ: জয়ের পথে ইসলামিক রিপাবলিক

আপডেট সময় : ০৬:৩৪:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

পশ্চিমা বিশ্বের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানের ইসলামিক রিপাবলিককে দুর্বল করার নানা চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তবে বিভিন্ন বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বর্তমান নেতৃত্ব এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টিকে থাকার পথে এগোচ্ছে। চারটি প্রধান কারণ এই যুদ্ধের ময়দানে ইরানকে জয়ের পথে এগিয়ে রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রথমত, যেকোনো মূল্যে নিজেদের শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখাই ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় বিজয়। তাদের নেতৃত্বাধীন সরকার এখনো ভেঙে পড়েনি, বরং রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দেশটির ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যদি না লাখো মার্কিন সেনা সরাসরি ইরানে স্থল অভিযান না চালায়, তবে গণঅভ্যুত্থান ছাড়া এই শাসনের পতন সম্ভব নয়। এমনকি নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্পও এখন ইরানের পতন ঘটানোর চেয়ে পর্দার আড়ালে একটি চুক্তির পথ খুঁজছেন। কারণ ইরান টিকে থাকলে তা তাদের জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে গণ্য হবে।

দ্বিতীয়ত, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকা তাদের দ্বিতীয় প্রধান শক্তি। এই প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সমুদ্রপথে সরবরাহ করা হয়। ইরান এই সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য হচ্ছে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানকে যুদ্ধের ময়দানে দর কষাকষির একটি বড় হাতিয়ার এনে দিয়েছে।

তৃতীয়ত, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ইরানকে নতুন আয়ের উৎস করে দিয়েছে। তারা এখন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে। চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো তাদের তেলবাহী জাহাজ পার করার জন্য ইরানকে মোটা অঙ্কের ফি দিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন এখন হরমুজ প্রণালি ‘যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ’ করার প্রস্তাব দিচ্ছে। এটি ইরানের জন্য একটি অভাবনীয় সুযোগ তৈরি করেছে। যে প্রণালি দিয়ে আগে ইরান কোনো অর্থ আয় করত না, এখন সেখান থেকে তারা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বিশাল রাজস্ব আয়ের স্বপ্ন দেখছে।

চতুর্থত, যদি ইরান এই যুদ্ধে টিকে থাকে এবং হরমুজ প্রণালি থেকে নতুন করে অর্থ উপার্জন করতে পারে, তবে সেই অর্থ দিয়ে তারা ধ্বংস হয়ে যাওয়া ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতা পুনরায় তৈরি করতে পারবে। এই সক্ষমতা ফিরে পেতে হয়তো কয়েক বছর সময় লাগবে, এবং ততদিনে ট্রাম্প বা নেতানিয়াহু ক্ষমতায় নাও থাকতে পারেন। এর ফলে ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখছে।