ঢাকা ০৭:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা নাসিমার জীবনের শেষ অধ্যায় পদ্মাতেই

২০১৩ সালের রানা প্লাজা ধসের মর্মান্তিক ঘটনা থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা নাসিমা বেগম এবার আর জীবনের লড়াইয়ে টিকতে পারলেন না। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় ফেরিঘাটে একটি যাত্রীবাহী বাসের পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় তার জীবনপ্রদীপ নিভে গেছে। এই দুর্ঘটনায় নাসিমার (৪০) সাথে তার আরও দুই স্বজন প্রাণ হারিয়েছেন, যা তার নিজ গ্রাম দিনাজপুরের পার্বতীপুরে শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।

জানা গেছে, পার্বতীপুরের ৪ নম্বর পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের বাসিন্দা নাসিমা বেগম জীবিকার সন্ধানে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভারে তার ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাড়িতে যান। তবে দীর্ঘ এক মাস চেষ্টা করেও কোনো চাকরি জোগাড় করতে পারেননি। এরপর ঈদ উপলক্ষে তিনি ভাগনির শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে বেড়াতে যান।

ঈদ শেষে গত বুধবার বিকেলে নাসিমা, তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ এবং চার বছরের শিশু আব্দুর রহমান একটি বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এতে বাসের সকল যাত্রীই পানিতে ডুবে যান।

কিছুক্ষণ পর আব্দুল আজিজ আজাদ জীবিত উদ্ধার হলেও প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমা, আজমিরা এবং আব্দুর রহমানের লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ড। এদিকে, স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে নিহতদের লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ির পথে রওনা দেওয়ার সময় কুষ্টিয়া এলাকায় লাশবাহী গাড়িটি আবারও দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে এই দুর্ঘটনায় তেমন বড় কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু। শুক্রবার জুমার নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।

নাসিমার চাচাতো ভাই জানান, রানা প্লাজা ধসের সময় নাসিমা সেখানে কর্মরত ছিলেন এবং ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে তিন দিন আটকে থাকার পর অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান। এরপর তিনি গ্রামের বাড়িতেই থাকতেন। স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে তিনি ঢাকায় গিয়েছিলেন, যা তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল। পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ. ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নিহতের বাড়িতে গিয়ে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। পার্বতীপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেনও নাসিমার বাড়িতে গিয়ে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণের দুয়ার উন্মোচন: এসএমই ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংকের ঐতিহাসিক চুক্তি

রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা নাসিমার জীবনের শেষ অধ্যায় পদ্মাতেই

আপডেট সময় : ০৯:৫৯:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

২০১৩ সালের রানা প্লাজা ধসের মর্মান্তিক ঘটনা থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা নাসিমা বেগম এবার আর জীবনের লড়াইয়ে টিকতে পারলেন না। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় ফেরিঘাটে একটি যাত্রীবাহী বাসের পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় তার জীবনপ্রদীপ নিভে গেছে। এই দুর্ঘটনায় নাসিমার (৪০) সাথে তার আরও দুই স্বজন প্রাণ হারিয়েছেন, যা তার নিজ গ্রাম দিনাজপুরের পার্বতীপুরে শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।

জানা গেছে, পার্বতীপুরের ৪ নম্বর পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের বাসিন্দা নাসিমা বেগম জীবিকার সন্ধানে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভারে তার ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাড়িতে যান। তবে দীর্ঘ এক মাস চেষ্টা করেও কোনো চাকরি জোগাড় করতে পারেননি। এরপর ঈদ উপলক্ষে তিনি ভাগনির শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে বেড়াতে যান।

ঈদ শেষে গত বুধবার বিকেলে নাসিমা, তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ এবং চার বছরের শিশু আব্দুর রহমান একটি বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এতে বাসের সকল যাত্রীই পানিতে ডুবে যান।

কিছুক্ষণ পর আব্দুল আজিজ আজাদ জীবিত উদ্ধার হলেও প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমা, আজমিরা এবং আব্দুর রহমানের লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ড। এদিকে, স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে নিহতদের লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ির পথে রওনা দেওয়ার সময় কুষ্টিয়া এলাকায় লাশবাহী গাড়িটি আবারও দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে এই দুর্ঘটনায় তেমন বড় কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু। শুক্রবার জুমার নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।

নাসিমার চাচাতো ভাই জানান, রানা প্লাজা ধসের সময় নাসিমা সেখানে কর্মরত ছিলেন এবং ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে তিন দিন আটকে থাকার পর অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান। এরপর তিনি গ্রামের বাড়িতেই থাকতেন। স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে তিনি ঢাকায় গিয়েছিলেন, যা তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল। পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ. ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নিহতের বাড়িতে গিয়ে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। পার্বতীপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেনও নাসিমার বাড়িতে গিয়ে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেছেন।