ঢাকা ১২:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

গভীর সমুদ্রের মানচিত্র নির্মাণে চীনের তৎপরতা: সাবমেরিন যুদ্ধের প্রস্তুতি?

চীন প্রশান্ত, ভারত ও আর্কটিক মহাসাগরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় পানির নিচের বিশাল এলাকার বিস্তারিত মানচিত্র তৈরিতে জোর দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই তথ্যভান্ডার ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে সাবমেরিন যুদ্ধের ক্ষেত্রে বেইজিংকে কৌশলগত সুবিধা দিতে পারে।

চীনের ওশান ইউনিভার্সিটি অফ চায়না পরিচালিত ‘ডং ফাং হং ৩’ নামক একটি গবেষণা জাহাজ গত দুই বছরে তাইওয়ান ও গুয়াম দ্বীপের কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ নৌ-অঞ্চল এবং ভারত মহাসাগরের কৌশলগত এলাকায় একাধিকবার যাতায়াত করেছে। জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, ২০২৪ সালের অক্টোবর এবং ২০২৫ সালের মে মাসে জাহাজটি জাপানের কাছে অবস্থিত শক্তিশালী চীনা সমুদ্র সেন্সরগুলো পরীক্ষা করেছে, যা পানির নিচে থাকা বস্তু শনাক্তকরণে সক্ষম। এছাড়াও, ২০২৫ সালের মার্চে এটি শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যবর্তী জলসীমায়, যা মালাক্কা প্রণালীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ, সেখানেও পরিভ্রমণ করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, জাহাজটি মূলত মাটি ও জলবায়ু গবেষণার কাজে নিয়োজিত ছিল। তবে, একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র থেকে জানা যায় যে, এটি গভীর সমুদ্রের মানচিত্র তৈরির কাজেও যুক্ত ছিল। নৌ-যুদ্ধ বিশেষজ্ঞরা এবং মার্কিন নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, ‘ডং ফাং হং ৩’ জাহাজের মাধ্যমে সংগৃহীত গভীর সমুদ্রের তথ্য, বিশেষ করে সমুদ্রতলের মানচিত্র ও সেন্সর স্থাপনের তথ্য, চীনকে পানির নিচের পরিবেশ সম্পর্কে এমন জ্ঞান দেবে যা সাবমেরিন মোতায়েন এবং শত্রুপক্ষের সাবমেরিন শনাক্তকরণে সহায়ক হতে পারে।

উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ‘ডং ফাং হং ৩’ একা নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর চীনা কার্যক্রমের অংশ। এই কার্যক্রমে আরও ডজনখানেক গবেষণা জাহাজ এবং শত শত সেন্সর ব্যবহার করা হচ্ছে। রয়টার্স চীনের সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত তথ্যাবলী, গবেষণাপত্র এবং গত পাঁচ বছরের ৪২টি গবেষণা জাহাজের চলাচল বিশ্লেষণ করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিএনপি সরকারের পাশে সর্বাত্মকভাবে থাকবে চীন: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

গভীর সমুদ্রের মানচিত্র নির্মাণে চীনের তৎপরতা: সাবমেরিন যুদ্ধের প্রস্তুতি?

আপডেট সময় : ০৭:০৯:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

চীন প্রশান্ত, ভারত ও আর্কটিক মহাসাগরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় পানির নিচের বিশাল এলাকার বিস্তারিত মানচিত্র তৈরিতে জোর দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই তথ্যভান্ডার ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে সাবমেরিন যুদ্ধের ক্ষেত্রে বেইজিংকে কৌশলগত সুবিধা দিতে পারে।

চীনের ওশান ইউনিভার্সিটি অফ চায়না পরিচালিত ‘ডং ফাং হং ৩’ নামক একটি গবেষণা জাহাজ গত দুই বছরে তাইওয়ান ও গুয়াম দ্বীপের কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ নৌ-অঞ্চল এবং ভারত মহাসাগরের কৌশলগত এলাকায় একাধিকবার যাতায়াত করেছে। জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, ২০২৪ সালের অক্টোবর এবং ২০২৫ সালের মে মাসে জাহাজটি জাপানের কাছে অবস্থিত শক্তিশালী চীনা সমুদ্র সেন্সরগুলো পরীক্ষা করেছে, যা পানির নিচে থাকা বস্তু শনাক্তকরণে সক্ষম। এছাড়াও, ২০২৫ সালের মার্চে এটি শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যবর্তী জলসীমায়, যা মালাক্কা প্রণালীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ, সেখানেও পরিভ্রমণ করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, জাহাজটি মূলত মাটি ও জলবায়ু গবেষণার কাজে নিয়োজিত ছিল। তবে, একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র থেকে জানা যায় যে, এটি গভীর সমুদ্রের মানচিত্র তৈরির কাজেও যুক্ত ছিল। নৌ-যুদ্ধ বিশেষজ্ঞরা এবং মার্কিন নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, ‘ডং ফাং হং ৩’ জাহাজের মাধ্যমে সংগৃহীত গভীর সমুদ্রের তথ্য, বিশেষ করে সমুদ্রতলের মানচিত্র ও সেন্সর স্থাপনের তথ্য, চীনকে পানির নিচের পরিবেশ সম্পর্কে এমন জ্ঞান দেবে যা সাবমেরিন মোতায়েন এবং শত্রুপক্ষের সাবমেরিন শনাক্তকরণে সহায়ক হতে পারে।

উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ‘ডং ফাং হং ৩’ একা নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর চীনা কার্যক্রমের অংশ। এই কার্যক্রমে আরও ডজনখানেক গবেষণা জাহাজ এবং শত শত সেন্সর ব্যবহার করা হচ্ছে। রয়টার্স চীনের সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত তথ্যাবলী, গবেষণাপত্র এবং গত পাঁচ বছরের ৪২টি গবেষণা জাহাজের চলাচল বিশ্লেষণ করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে।