ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিএনপি সরকারের পাশে সর্বাত্মকভাবে থাকবে চীন: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০১:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য বাস্তবায়নে চীন সর্বাত্মকভাবে পাশে থাকবে। বৃহস্পতিবার দৈনিক ইনকিলাব ভবনে পত্রিকাটির সম্পাদকের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটেছে যেখানে বিএনপি ভূমিধস বিজয় লাভ করেছে। চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে এই সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উল্লেখ করেন যে, চীন ও বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে তারা কাজ করছেন এবং ভবিষ্যতের সমৃদ্ধ বাংলাদেশের দিকেই তাদের দৃষ্টি।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত সরকারের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি ও সার সংকট মোকাবিলায় চীন বাংলাদেশকে ভারতের চেয়েও বেশি পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ করছে, যদিও চীন তা প্রচার করে না। বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রায় ৩০টি সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করায় বাংলাদেশ বর্তমানে বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে পিছিয়ে গেছে; নতুবা সরকার এখন কমপক্ষে এক হাজার মেগাওয়াট প্রস্তুত বিদ্যুৎ পেত। তিনি আরও জানান, ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশি পণ্যে চীনের শুল্কমুক্ত সুবিধা বহাল থাকবে যা অন্য কোনো শক্তিশালী দেশ বাংলাদেশকে দিচ্ছে না। অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি, এআই এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণসহ উৎপাদনমুখী খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের জন্য চীন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একমাত্র চীনই নিঃস্বার্থভাবে বড় বিনিয়োগ করতে সক্ষম। বিআরআই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করা সম্ভব উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী আসন্ন গ্রীষ্মকালেই চীন সফর করবেন। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে চীন সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানোর কথা নিশ্চিত করেছেন এবং এই সফরকে ঐতিহাসিক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত ও সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে পোপ লিও’র শান্তির বার্তা

নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিএনপি সরকারের পাশে সর্বাত্মকভাবে থাকবে চীন: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

আপডেট সময় : ১২:০১:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য বাস্তবায়নে চীন সর্বাত্মকভাবে পাশে থাকবে। বৃহস্পতিবার দৈনিক ইনকিলাব ভবনে পত্রিকাটির সম্পাদকের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটেছে যেখানে বিএনপি ভূমিধস বিজয় লাভ করেছে। চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে এই সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উল্লেখ করেন যে, চীন ও বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে তারা কাজ করছেন এবং ভবিষ্যতের সমৃদ্ধ বাংলাদেশের দিকেই তাদের দৃষ্টি।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত সরকারের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি ও সার সংকট মোকাবিলায় চীন বাংলাদেশকে ভারতের চেয়েও বেশি পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ করছে, যদিও চীন তা প্রচার করে না। বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রায় ৩০টি সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করায় বাংলাদেশ বর্তমানে বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে পিছিয়ে গেছে; নতুবা সরকার এখন কমপক্ষে এক হাজার মেগাওয়াট প্রস্তুত বিদ্যুৎ পেত। তিনি আরও জানান, ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশি পণ্যে চীনের শুল্কমুক্ত সুবিধা বহাল থাকবে যা অন্য কোনো শক্তিশালী দেশ বাংলাদেশকে দিচ্ছে না। অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি, এআই এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণসহ উৎপাদনমুখী খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের জন্য চীন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একমাত্র চীনই নিঃস্বার্থভাবে বড় বিনিয়োগ করতে সক্ষম। বিআরআই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করা সম্ভব উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী আসন্ন গ্রীষ্মকালেই চীন সফর করবেন। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে চীন সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানোর কথা নিশ্চিত করেছেন এবং এই সফরকে ঐতিহাসিক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত ও সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।