ঢাকা ০৫:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

৪২ লাখ টাকার ব্রিজ হস্তান্তরের আগেই হেলে পড়লো: ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ডেক-স্ল্যাব ব্রিজ হস্তান্তরের আগেই হেলে পড়েছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের সাংগর-গোপালপুর সংযোগ সড়কের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক মিয়ার বাড়ির সামনে এই ঘটনা ঘটে।

উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী আবুল বাসার জানান, প্রায় ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শান্ত এন্টারপ্রাইজ ব্রিজটি নির্মাণ করছে। ব্রিজটির দৈর্ঘ্য ১৬ মিটার এবং প্রস্থ ৩.৭ মিটার। স্থানীয়রা জানান, পূর্বে সেখানে একটি পাটাতন ব্রিজ ছিল, যা দিয়ে তিন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচল করতেন। নতুন ডেক-স্ল্যাব ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু হলেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে গত বছরের নভেম্বর মাসে পুনরায় কাজ শুরু করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণে ঢালাইয়ের সময়ই ব্রিজের একাংশ দেবে যায়। পরে সেটি ভেঙে পুনরায় নির্মাণ করা হলেও কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় আবারও পুরো ব্রিজ দেবে গিয়ে হেলে পড়ে। বর্তমানে ব্রিজটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তারা আরও জানান, ব্রিজটি দিয়ে মূলত বাইসাইকেল ও অটোরিকশা চলাচল করে। ভারী যানবাহন চলাচল না করলেও এমন অবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বর্তমানে এলাকাবাসী আবারও ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোর ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. নুরুল আমিন খান সুরুজ পলাতক থাকায় এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, ব্রিজটি এখনও হস্তান্তর করা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এলপিজির দাম বাড়লো, ১২ কেজি সিলিন্ডার ১৯৪০ টাকা

৪২ লাখ টাকার ব্রিজ হস্তান্তরের আগেই হেলে পড়লো: ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

আপডেট সময় : ০৫:৫৪:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ডেক-স্ল্যাব ব্রিজ হস্তান্তরের আগেই হেলে পড়েছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের সাংগর-গোপালপুর সংযোগ সড়কের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক মিয়ার বাড়ির সামনে এই ঘটনা ঘটে।

উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী আবুল বাসার জানান, প্রায় ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শান্ত এন্টারপ্রাইজ ব্রিজটি নির্মাণ করছে। ব্রিজটির দৈর্ঘ্য ১৬ মিটার এবং প্রস্থ ৩.৭ মিটার। স্থানীয়রা জানান, পূর্বে সেখানে একটি পাটাতন ব্রিজ ছিল, যা দিয়ে তিন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচল করতেন। নতুন ডেক-স্ল্যাব ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু হলেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে গত বছরের নভেম্বর মাসে পুনরায় কাজ শুরু করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণে ঢালাইয়ের সময়ই ব্রিজের একাংশ দেবে যায়। পরে সেটি ভেঙে পুনরায় নির্মাণ করা হলেও কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় আবারও পুরো ব্রিজ দেবে গিয়ে হেলে পড়ে। বর্তমানে ব্রিজটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তারা আরও জানান, ব্রিজটি দিয়ে মূলত বাইসাইকেল ও অটোরিকশা চলাচল করে। ভারী যানবাহন চলাচল না করলেও এমন অবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বর্তমানে এলাকাবাসী আবারও ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোর ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. নুরুল আমিন খান সুরুজ পলাতক থাকায় এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, ব্রিজটি এখনও হস্তান্তর করা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।