দেশে চলমান জ্বালানি তেলের তীব্র ঘাটতি এবং পাম্পগুলোতে ক্রমবর্ধমান বিশৃঙ্খলার কারণে যেকোনো সময় সারাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন রোববার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।
সংগঠনটি বলছে, তেল ডিপো থেকে চাহিদানুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না, যার ফলে পাম্পগুলোতে তেলের জন্য মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে পর্যাপ্ত তেল না থাকায় এবং দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের চাপে পাম্পে কর্মরতরা শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে ব্যবসা চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে মালিকপক্ষ হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, পাম্পগুলোতে তেল বিক্রির সময় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। ফলে অনেক অসাধু চালক দিনে একাধিকবার তেল নিয়ে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছেন, যার ফলে প্রকৃত গ্রাহকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এমনকি গভীর রাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে পাম্পে এসে জোরপূর্বক তেল নেওয়ার মতো ‘লুটতরাজ’ ও ‘মব’ সৃষ্টির ঘটনা ঘটছে। ঠাকুরগাঁওয়ের একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে জানানো হয়, সেখানে জ্বালানি সরবরাহ চলাকালীন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ডিপো থেকে তেল পরিবহনের সময় ট্যাংকারগুলো পথে লুট হওয়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ঈদের আগের রাতে অনেক পাম্পে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সংরক্ষিত সামান্য তেলও রাখা সম্ভব হয়নি, কারণ উন্মত্ত জনতা জোর করে পাম্প খুলে সেই জ্বালানি নিয়ে গেছে। জ্বালানি বিপণন ব্যবস্থায় জেলা প্রশাসন ও সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার বিষয়টি বারবার উপেক্ষা করার ফলে এই নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাম্পগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শক্তিশালী উপস্থিতি এবং পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে ডিপো থেকে তেল সংগ্রহ বা ‘লিফটিং’ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার পথ ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই বলে সংগঠনটি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























