কুমিল্লার রেলক্রসিংয়ে বাসের সঙ্গে ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও রেল দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাম্প্রতিক সময়ে বগুড়া, ফেনী, হবিগঞ্জ ও জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া এসব মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। পবিত্র ঈদুল ফিতরের এই আনন্দঘন মুহূর্তে এমন প্রাণহানিকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিটি মানুষের জীবনকে মূল্যবান উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, জনগণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না।
প্রধানমন্ত্রী এই সব দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণ অবিলম্বে খুঁজে বের করতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। বিশেষ করে রেলক্রসিং ব্যবস্থাপনা ও সেতুর নিরাপত্তাসহ সামগ্রিক পরিবহন খাতের দুর্বলতাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্টদের কোনো প্রকার ব্যর্থতা বা অবহেলা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য যে, কুমিল্লার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা তদন্তে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে কয়েকজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের পর আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরিবহন খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা রোধে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।
রিপোর্টারের নাম 
























