ঢাকা ০৫:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠন: ঈদের পর শুরু হচ্ছে বড় পরিবর্তন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ দেড় যুগ পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে এবার দলীয় সাংগঠনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে মনোযোগী হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে ১০টিরই মেয়াদ অনেক আগে শেষ হয়ে যাওয়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরপরই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে এই বিশাল পুনর্গঠন মিশনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে যাচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তারেক রহমান অঙ্গ-সংগঠনগুলোর নাজুক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই পুনর্গঠনের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেন। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।

তালিকায় থাকা সংগঠনগুলোর মধ্যে ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ গত ১ মার্চ শেষ হয়েছে। শীর্ষ পদ পেতে ইতিমধ্যে মমিনুল ইসলাম জিসান, গণেশ চন্দ্র রায় সাহসসহ একদল ছাত্রনেতা জোর লবিং শুরু করেছেন। অন্যদিকে, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুজনেই বর্তমানে সংসদ সদস্য ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকায় সেখানেও নতুন নেতৃত্ব আসা সময়ের ব্যাপার মাত্র। যুবদলের আংশিক কমিটি দীর্ঘ দুই বছরেও পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় সেখানেও সংস্কারের আভাস পাওয়া গেছে। কৃষক দল, মহিলা দল এবং শ্রমিক দলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনগুলোর কমিটির মেয়াদ তিন থেকে দশ বছর আগে শেষ হলেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো কাউন্সিল হয়নি। এমনকি জাসাস, তাঁতী দল ও মৎস্যজীবী দলের মতো সংগঠনগুলোও বর্তমানে নেতৃত্ব সংকটে ভুগছে।

অঙ্গ-সংগঠনগুলোর পাশাপাশি বিএনপির মূল দলের জাতীয় কাউন্সিলও প্রায় ১০ বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়নি। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল হলেও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর কাউন্সিল করার নিয়মটি পালন করা সম্ভব হয়নি। তবে দলীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে, আপাতত কাউন্সিলের চেয়েও রাষ্ট্র পরিচালনা এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকার বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে মূল দলের কাউন্সিল সম্ভবত ২০২৭ সাল নাগাদ হতে পারে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, বর্তমানে সবার মূল লক্ষ্য সরকার পরিচালনার দিকে থাকলেও সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে শূন্য পদগুলো পূরণ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়াটি ঈদের পরেই পুরোদমে শুরু হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ইরানকে দমানোর সক্ষমতা নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র’

বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠন: ঈদের পর শুরু হচ্ছে বড় পরিবর্তন

আপডেট সময় : ১১:১৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘ দেড় যুগ পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে এবার দলীয় সাংগঠনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে মনোযোগী হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে ১০টিরই মেয়াদ অনেক আগে শেষ হয়ে যাওয়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরপরই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে এই বিশাল পুনর্গঠন মিশনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে যাচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তারেক রহমান অঙ্গ-সংগঠনগুলোর নাজুক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই পুনর্গঠনের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেন। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।

তালিকায় থাকা সংগঠনগুলোর মধ্যে ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ গত ১ মার্চ শেষ হয়েছে। শীর্ষ পদ পেতে ইতিমধ্যে মমিনুল ইসলাম জিসান, গণেশ চন্দ্র রায় সাহসসহ একদল ছাত্রনেতা জোর লবিং শুরু করেছেন। অন্যদিকে, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুজনেই বর্তমানে সংসদ সদস্য ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকায় সেখানেও নতুন নেতৃত্ব আসা সময়ের ব্যাপার মাত্র। যুবদলের আংশিক কমিটি দীর্ঘ দুই বছরেও পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় সেখানেও সংস্কারের আভাস পাওয়া গেছে। কৃষক দল, মহিলা দল এবং শ্রমিক দলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনগুলোর কমিটির মেয়াদ তিন থেকে দশ বছর আগে শেষ হলেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো কাউন্সিল হয়নি। এমনকি জাসাস, তাঁতী দল ও মৎস্যজীবী দলের মতো সংগঠনগুলোও বর্তমানে নেতৃত্ব সংকটে ভুগছে।

অঙ্গ-সংগঠনগুলোর পাশাপাশি বিএনপির মূল দলের জাতীয় কাউন্সিলও প্রায় ১০ বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়নি। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল হলেও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর কাউন্সিল করার নিয়মটি পালন করা সম্ভব হয়নি। তবে দলীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে, আপাতত কাউন্সিলের চেয়েও রাষ্ট্র পরিচালনা এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকার বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে মূল দলের কাউন্সিল সম্ভবত ২০২৭ সাল নাগাদ হতে পারে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, বর্তমানে সবার মূল লক্ষ্য সরকার পরিচালনার দিকে থাকলেও সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে শূন্য পদগুলো পূরণ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়াটি ঈদের পরেই পুরোদমে শুরু হবে।