ঢাকা ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট: রুশ তেলের জন্য এশিয়ার কাড়াকাড়ি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে এক ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোতে তেলের জন্য তীব্র হাহাকার শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, রাশিয়ার তেল আমদানির উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল হওয়ার সুযোগ নিয়ে ভারত ও চীনের মতো দেশগুলো রুশ তেল মজুতের প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

গত ১৩ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র এক ঘোষণায় সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য কেনাবেচার ওপর ৩০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে। মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ঘাটতি মেটানোর লক্ষ্যে ওয়াশিংটন এই সাময়িক ছাড় দিয়েছে। যুদ্ধের আগে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রুশ ‘ইউরাল’ তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৫৮ ডলার থাকলেও, মার্চের শুরুতেই তা ১০০ ডলারে পৌঁছে যায়। বর্তমানে এটি ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারে স্থিতিশীল রয়েছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের উচ্চমূল্যেরই ইঙ্গিত দেয়।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে প্রতিদিন ১৮ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করেছে। অথচ মাত্র এক মাস আগেই, একটি বাণিজ্যিক চুক্তির কারণে ভারত রুশ তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারত প্রতিদিন যে ২৬ লাখ ব্যারেল তেল পেতো, রুশ তেল সেই ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করতে পারবে না।

অন্যদিকে, রাশিয়ার তেলের অন্যতম বড় বাজার চীনও নতুন করে তেল মজুত করছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘সিনোপেক’ এবং ‘পেট্রোচায়না’ গত নভেম্বর থেকে বন্ধ থাকা রুশ তেল কেনা পুনরায় শুরু করতে সরবরাহকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এরিকা ডাউনস বলেন, ‘সমুদ্রে আটকে থাকা রুশ তেলের জন্য এখন ভারত ও চীনের মধ্যে কাড়াকাড়ি শুরু হবে।’

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভয়ে এতদিন যারা রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা এড়িয়ে চলছিল, তারাও এখন আগ্রহ দেখাচ্ছে। মার্কিন মিত্র হওয়া সত্ত্বেও ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ড এখন সরাসরি রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করছে। ফিলিপাইনের জ্বালানি সচিব শ্যারন গারিন এবং থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটও রুশ তেল কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানি মন্ত্রী বাহলিল লাহাদালিয়া জানিয়েছেন, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে তারা যেকোনো উৎস থেকে তেল কিনতে প্রস্তুত। তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদী শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র মাত্র ৩০ দিনের জন্য রুশ তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আরব সাগরে ইরানের জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ আটক করল যুক্তরাষ্ট্র

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট: রুশ তেলের জন্য এশিয়ার কাড়াকাড়ি

আপডেট সময় : ০৯:০২:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে এক ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোতে তেলের জন্য তীব্র হাহাকার শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, রাশিয়ার তেল আমদানির উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল হওয়ার সুযোগ নিয়ে ভারত ও চীনের মতো দেশগুলো রুশ তেল মজুতের প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

গত ১৩ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র এক ঘোষণায় সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য কেনাবেচার ওপর ৩০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে। মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ঘাটতি মেটানোর লক্ষ্যে ওয়াশিংটন এই সাময়িক ছাড় দিয়েছে। যুদ্ধের আগে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রুশ ‘ইউরাল’ তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৫৮ ডলার থাকলেও, মার্চের শুরুতেই তা ১০০ ডলারে পৌঁছে যায়। বর্তমানে এটি ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারে স্থিতিশীল রয়েছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের উচ্চমূল্যেরই ইঙ্গিত দেয়।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে প্রতিদিন ১৮ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করেছে। অথচ মাত্র এক মাস আগেই, একটি বাণিজ্যিক চুক্তির কারণে ভারত রুশ তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারত প্রতিদিন যে ২৬ লাখ ব্যারেল তেল পেতো, রুশ তেল সেই ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করতে পারবে না।

অন্যদিকে, রাশিয়ার তেলের অন্যতম বড় বাজার চীনও নতুন করে তেল মজুত করছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘সিনোপেক’ এবং ‘পেট্রোচায়না’ গত নভেম্বর থেকে বন্ধ থাকা রুশ তেল কেনা পুনরায় শুরু করতে সরবরাহকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এরিকা ডাউনস বলেন, ‘সমুদ্রে আটকে থাকা রুশ তেলের জন্য এখন ভারত ও চীনের মধ্যে কাড়াকাড়ি শুরু হবে।’

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভয়ে এতদিন যারা রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা এড়িয়ে চলছিল, তারাও এখন আগ্রহ দেখাচ্ছে। মার্কিন মিত্র হওয়া সত্ত্বেও ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ড এখন সরাসরি রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করছে। ফিলিপাইনের জ্বালানি সচিব শ্যারন গারিন এবং থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটও রুশ তেল কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানি মন্ত্রী বাহলিল লাহাদালিয়া জানিয়েছেন, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে তারা যেকোনো উৎস থেকে তেল কিনতে প্রস্তুত। তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদী শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র মাত্র ৩০ দিনের জন্য রুশ তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে।