ঢাকা ০৫:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

নতুন সরকারের প্রথম মাস: সীমান্তে ঘটেনি কোন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশে নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পর সফলভাবে এক মাস পূর্ণ করেছে। এই সময়ের মধ্যে সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক খবর হলো, গত এক মাসে দেশের সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলিতে কোনো বাংলাদেশি নিহতের ঘটনা ঘটেনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্র এই ইতিবাচক তথ্য নিশ্চিত করেছে। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা একে নতুন প্রশাসনের অন্যতম সাফল্য হিসেবে দেখছেন এবং এই ধারা অব্যাহত রাখতে বিজিবি সাধারণ মানুষকে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, গত এক মাসে সীমান্তে কোনো উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি এবং বিএসএফ-এর পক্ষ থেকেও কোনো গুলি চালানো হয়নি। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইনে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও অতীতে বিএসএফ-এর হাতে অসংখ্য সাধারণ মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে কিশোরী ফেলানী হত্যাকাণ্ড বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হয়েছিল।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসেই বিএসএফ-এর গুলিতে তিনজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছিলেন। তবে ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই দিল্লির কাছে এই বার্তা স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সীমান্তে কোনোভাবেই অবৈধ মারণাস্ত্র ব্যবহার করা যাবে না এবং বিনা কারণে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর গুলি চালানো বন্ধ করতে হবে। যেকোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার ওপর জোর দিয়েছে ঢাকা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ এই পরিবর্তনকে প্রতিবেশী দেশের একটি ভালো দিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে সীমান্তে বিএসএফ এবং ভারতীয় নাগরিকদের হাতে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর সংখ্যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিএসএফ-এর হাতে ৩৪ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছিলেন, যার মধ্যে ২৪ জন গুলিতে এবং ১০ জন নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যান। এছাড়া খাসি জনগোষ্ঠীর সদস্যদের হাতেও বেশ কিছু বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছিলেন। গত কয়েক বছরে সীমান্ত হত্যার হার ক্রমাগত বাড়লেও নতুন সরকারের এই এক মাসে কোনো নিহতের ঘটনা না ঘটাকে মানবাধিকারকর্মীরা একটি ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ইরানকে দমানোর সক্ষমতা নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র’

নতুন সরকারের প্রথম মাস: সীমান্তে ঘটেনি কোন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা

আপডেট সময় : ০৮:৫৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশে নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পর সফলভাবে এক মাস পূর্ণ করেছে। এই সময়ের মধ্যে সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক খবর হলো, গত এক মাসে দেশের সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলিতে কোনো বাংলাদেশি নিহতের ঘটনা ঘটেনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্র এই ইতিবাচক তথ্য নিশ্চিত করেছে। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা একে নতুন প্রশাসনের অন্যতম সাফল্য হিসেবে দেখছেন এবং এই ধারা অব্যাহত রাখতে বিজিবি সাধারণ মানুষকে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, গত এক মাসে সীমান্তে কোনো উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি এবং বিএসএফ-এর পক্ষ থেকেও কোনো গুলি চালানো হয়নি। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইনে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও অতীতে বিএসএফ-এর হাতে অসংখ্য সাধারণ মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে কিশোরী ফেলানী হত্যাকাণ্ড বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হয়েছিল।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসেই বিএসএফ-এর গুলিতে তিনজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছিলেন। তবে ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই দিল্লির কাছে এই বার্তা স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সীমান্তে কোনোভাবেই অবৈধ মারণাস্ত্র ব্যবহার করা যাবে না এবং বিনা কারণে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর গুলি চালানো বন্ধ করতে হবে। যেকোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার ওপর জোর দিয়েছে ঢাকা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ এই পরিবর্তনকে প্রতিবেশী দেশের একটি ভালো দিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে সীমান্তে বিএসএফ এবং ভারতীয় নাগরিকদের হাতে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর সংখ্যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিএসএফ-এর হাতে ৩৪ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছিলেন, যার মধ্যে ২৪ জন গুলিতে এবং ১০ জন নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যান। এছাড়া খাসি জনগোষ্ঠীর সদস্যদের হাতেও বেশ কিছু বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছিলেন। গত কয়েক বছরে সীমান্ত হত্যার হার ক্রমাগত বাড়লেও নতুন সরকারের এই এক মাসে কোনো নিহতের ঘটনা না ঘটাকে মানবাধিকারকর্মীরা একটি ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন।