ঢাকা ০৭:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি সংকটে অন্ধকারে নিমজ্জিত কিউবা, ‘দখল’ নেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর তেল অবরোধের মুখে কিউবার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। দেশজুড়ে ভয়াবহ ব্ল্যাকআউটের ফলে চরম বিপর্যয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে কিউবাকে ‘দখল’ করার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, কিউবা বর্তমানে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র চাইলে দেশটিকে ‘মুক্ত’ বা ‘দখল’ করার মতো যেকোনো পদক্ষেপ নিতে পারে।

কিউবার জাতীয় গ্রিড অচল হয়ে পড়ায় প্রায় ৯৬ লাখ মানুষ বর্তমানে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। দেশটির বিদ্যুৎ সংস্থা ইউনিয়ন নাসিওনাল ইলেকট্রিকা (ইউএনই) জানিয়েছে, পুরোনো অবকাঠামো এবং জ্বালানির অভাবে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। অনেক এলাকায় দিনে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশটির পরিবহন ও পর্যটন খাতে। ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অস্থিরতার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধ কিউবার জ্বালানি সরবরাহকে কার্যত স্থবির করে দিয়েছে।

তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও খাদ্য-ওষুধের অভাবে কিউবার জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। বিভিন্ন স্থানে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। কমিউনিস্ট পার্টির কার্যালয়ে হামলার অভিযোগে অন্তত ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে কিউবা সরকার অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে প্রবাসী কিউবানদের দেশে বিনিয়োগের সুযোগ অন্যতম। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তারা মার্কিন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপনে প্রস্তুত। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বিষয়টি স্বীকার করলেও সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাপ ও হুমকির মুখে আলোচনায় বসবে না ইরান: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

জ্বালানি সংকটে অন্ধকারে নিমজ্জিত কিউবা, ‘দখল’ নেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

আপডেট সময় : ০৭:১৩:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর তেল অবরোধের মুখে কিউবার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। দেশজুড়ে ভয়াবহ ব্ল্যাকআউটের ফলে চরম বিপর্যয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে কিউবাকে ‘দখল’ করার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, কিউবা বর্তমানে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র চাইলে দেশটিকে ‘মুক্ত’ বা ‘দখল’ করার মতো যেকোনো পদক্ষেপ নিতে পারে।

কিউবার জাতীয় গ্রিড অচল হয়ে পড়ায় প্রায় ৯৬ লাখ মানুষ বর্তমানে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। দেশটির বিদ্যুৎ সংস্থা ইউনিয়ন নাসিওনাল ইলেকট্রিকা (ইউএনই) জানিয়েছে, পুরোনো অবকাঠামো এবং জ্বালানির অভাবে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। অনেক এলাকায় দিনে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশটির পরিবহন ও পর্যটন খাতে। ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অস্থিরতার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধ কিউবার জ্বালানি সরবরাহকে কার্যত স্থবির করে দিয়েছে।

তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও খাদ্য-ওষুধের অভাবে কিউবার জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। বিভিন্ন স্থানে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। কমিউনিস্ট পার্টির কার্যালয়ে হামলার অভিযোগে অন্তত ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে কিউবা সরকার অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে প্রবাসী কিউবানদের দেশে বিনিয়োগের সুযোগ অন্যতম। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তারা মার্কিন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপনে প্রস্তুত। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বিষয়টি স্বীকার করলেও সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।