ঢাকা ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট: খুলনা বিভাগসহ ১৫ জেলায় ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ, দেশজুড়ে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা

জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগে খুলনা বিভাগসহ দেশের ১৫টি জেলায় পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার ডিপো থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন ও বিপণন স্বেচ্ছায় বন্ধ রেখেছেন জ্বালানি ব্যবসায়ীরা। গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এদিকে, রাজশাহীতেও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে আগামী সোমবার থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি।

জ্বালানি ব্যবসায়ীদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ না পাওয়ায় তারা এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুরে খুলনা ট্যাংকলরি ওনার্স ভবনে জ্বালানি ব্যবসাসংশ্লিষ্ট চারটি সংগঠনের নেতাদের সমন্বয়ে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নেতারা জানান, পূর্বে প্রতিটি ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বৈশ্বিক সংকটের অজুহাত দেখিয়ে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করছে না, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করেছে।

ব্যবসায়ী নেতাদের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা বিভাগসহ ১৫টি জেলায় প্রতিদিন অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৪০-৪৫ লাখ লিটার। অথচ খুলনার পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার তেল ডিপো থেকে বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৯ লাখ লিটার। ফিলিং স্টেশন, এজেন্সি ও মালিকদের পক্ষ থেকে প্রতিটি ডিপো থেকে অতিরিক্ত দেড় লাখ লিটার করে মোট সাড়ে চার লাখ লিটার তেল সরবরাহ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও বিপিসি তা গ্রহণ করেনি। এর প্রতিবাদেই জ্বালানি ব্যবসায়ীরা স্বেচ্ছায় তেল উত্তোলন ও বিপণন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জরুরি সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির সহসভাপতি শেখ মুরাদ হোসেন। সভায় বক্তব্য দেন খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ পিন্টু, শেখ আমানত আলী ও রফিকুল ইসলাম নন্টু। তাদের সকলের বক্তব্যে জ্বালানি সংকটের তীব্রতা এবং এর সমাধানে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।

এদিকে, রাজশাহীতেও জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি। গতকাল দুপুরে নগরীর একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত না হলে আগামী সোমবার থেকে তারাও তেল উত্তোলন বন্ধ করে দেবেন। তারা আরও উল্লেখ করেন যে, একদিকে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না, অন্যদিকে পেট্রোল পাম্পগুলোয় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা নিরসনে প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন। এই ধর্মঘট অব্যাহত থাকলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে এবং জনজীবনে দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রপথে চরম উত্তেজনা: দুই সপ্তাহে ১৭ জাহাজে হামলা, নিহত ২ ভারতীয়

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট: খুলনা বিভাগসহ ১৫ জেলায় ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ, দেশজুড়ে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০৯:৩৮:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগে খুলনা বিভাগসহ দেশের ১৫টি জেলায় পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার ডিপো থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন ও বিপণন স্বেচ্ছায় বন্ধ রেখেছেন জ্বালানি ব্যবসায়ীরা। গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এদিকে, রাজশাহীতেও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে আগামী সোমবার থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি।

জ্বালানি ব্যবসায়ীদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ না পাওয়ায় তারা এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুরে খুলনা ট্যাংকলরি ওনার্স ভবনে জ্বালানি ব্যবসাসংশ্লিষ্ট চারটি সংগঠনের নেতাদের সমন্বয়ে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নেতারা জানান, পূর্বে প্রতিটি ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বৈশ্বিক সংকটের অজুহাত দেখিয়ে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করছে না, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করেছে।

ব্যবসায়ী নেতাদের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা বিভাগসহ ১৫টি জেলায় প্রতিদিন অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৪০-৪৫ লাখ লিটার। অথচ খুলনার পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার তেল ডিপো থেকে বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৯ লাখ লিটার। ফিলিং স্টেশন, এজেন্সি ও মালিকদের পক্ষ থেকে প্রতিটি ডিপো থেকে অতিরিক্ত দেড় লাখ লিটার করে মোট সাড়ে চার লাখ লিটার তেল সরবরাহ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও বিপিসি তা গ্রহণ করেনি। এর প্রতিবাদেই জ্বালানি ব্যবসায়ীরা স্বেচ্ছায় তেল উত্তোলন ও বিপণন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জরুরি সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির সহসভাপতি শেখ মুরাদ হোসেন। সভায় বক্তব্য দেন খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ পিন্টু, শেখ আমানত আলী ও রফিকুল ইসলাম নন্টু। তাদের সকলের বক্তব্যে জ্বালানি সংকটের তীব্রতা এবং এর সমাধানে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।

এদিকে, রাজশাহীতেও জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি। গতকাল দুপুরে নগরীর একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত না হলে আগামী সোমবার থেকে তারাও তেল উত্তোলন বন্ধ করে দেবেন। তারা আরও উল্লেখ করেন যে, একদিকে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না, অন্যদিকে পেট্রোল পাম্পগুলোয় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা নিরসনে প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন। এই ধর্মঘট অব্যাহত থাকলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে এবং জনজীবনে দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।