বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী বিদেশি জাহাজ এবং অভ্যন্তরীণ পণ্যবাহী লাইটার জাহাজ উভয়কেই মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। বিশেষত বিদেশি জাহাজের জন্য বাঙ্কারিং (জ্বালানি সরবরাহ) কার্যক্রম প্রায় বন্ধের মুখে এবং অভ্যন্তরীণ নদীপথে পণ্য পরিবহনও স্থবির হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী মাদার ভেসেলগুলো বিশেষায়িত পয়েন্ট ফাইভ সালফার মেরিন ফুয়েল ব্যবহার করে। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বিদেশি জাহাজগুলোকে এই জ্বালানি সরবরাহের জন্য ১৬টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া আছে। এসব প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় তেল বিপণন সংস্থা পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে ট্যাংকারের মাধ্যমে বিদেশি জাহাজে বিক্রি করে। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে চাহিদাপত্র জমা দেওয়ার পরও পর্যাপ্ত পয়েন্ট ফাইভ সালফার মেরিন ফুয়েল পাচ্ছেন না ডিলাররা, যা বিদেশি জাহাজের জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।
একইভাবে, অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী লাইটার জাহাজগুলোও প্রয়োজনীয় ডিজেল পাচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন নদীবন্দর ও ঘাটে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস করে পরিবহন করে এই লাইটার জাহাজগুলো। বর্তমানে প্রায় এক হাজার ১০০ লাইটার জাহাজ অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচল করে এবং প্রতিদিন ৯০ থেকে ১০০টি জাহাজ পণ্য খালাসের শিডিউল পায়। এসব জাহাজের জন্য দৈনিক প্রায় আড়াই লাখ লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকলেও, বর্তমানে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ হাজার লিটার।
এই জ্বালানি সংকটের কারণে একটি লাইটার জাহাজের পক্ষে দূরপাল্লার রুটে চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জ যাতায়াতে একটি লাইটার জাহাজের প্রায় চার হাজার লিটার তেল প্রয়োজন হলেও, সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৪০০-৫০০ লিটার। এই স্বল্প পরিমাণ তেল দিয়ে জাহাজগুলো নোঙর করে রাখতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে, ফলে সেগুলো পণ্য নিয়ে গন্তব্যে রওনা হতে পারছে না।
বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলস অ্যান্ড সাপ্লাই কর্পোরেশন (বিডব্লিউটিসিসি)-এর মুখপাত্র পারভেজ আহমেদ জানিয়েছেন, এমন জ্বালানি তেলের সংকট আগে কখনো হয়নি। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া মোট পণ্যের প্রায় ৮০ শতাংশই বহির্নোঙরে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে খালাস হয়ে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছায়, যার মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যই বেশি থাকে। তাই লাইটার জাহাজ চলাচল সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত। এই ভয়াবহ জ্বালানি সংকট দেশের পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 
























