ভ্যাটিকানে আয়োজিত এক সম্মেলনে যুদ্ধ শুরু করা খ্রিষ্টান রাজনৈতিক নেতাদের গির্জায় গিয়ে ‘পাপস্বীকার’ বা কনফেশন করার পরামর্শ দিয়েছেন পোপ লিও। তিনি এসব নেতাকে যিশুর শিক্ষা সঠিকভাবে অনুসরণ করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।
যাজকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে পোপ কোনো নির্দিষ্ট নেতা বা যুদ্ধের নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি। তবে তিনি বলেন, ‘সশস্ত্র সংঘাতের জন্য যাদের ওপর গুরুতর দায়িত্ব বর্তায়, সেই খ্রিষ্টানদের কি নিজের বিবেক পরীক্ষা করার এবং কনফেশনে যাওয়ার মতো আত্মবিশ্বাস ও সাহস আছে?’ পোপ আরও বলেন, যুদ্ধ শুরু করা খ্রিষ্টান নেতাদের উচিত পাপ স্বীকার করা, যা ব্যক্তিগত শুদ্ধি ঘটায় এবং সমাজে শান্তি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, পোপ লিও তার ভাষণে সরাসরি কোনো যুদ্ধ বা যুদ্ধবাজ নেতার নাম মুখে না নিলেও বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ঠিক কাদের উদ্দেশে তিনি এই কথা বলেছেন, তা স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক যুদ্ধের সূচনা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসবিটারিয়ান খ্রিষ্টান (প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিষ্টধর্মের একটি শাখা) হিসেবে বেড়ে উঠেছেন। অন্যদিকে, তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী।
যিশুর অহিংসার নীতি অনুসরণ করে ক্যাথলিক চার্চ সাধারণত যুদ্ধের বিরোধিতা করে থাকে। তবে শতাব্দীকাল ধরে চার্চ ‘জাস্ট ওয়ার’ বা ন্যায়সংগত যুদ্ধের ঐতিহ্য অনুসরণ করে আসছে। এই নীতি অনুযায়ী, কোনো অন্যায্য আক্রমণ প্রতিহত করার মতো সংঘাত নৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য কি না, তা যাচাই করা হয়। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওয়াশিংটন ডিসির কার্ডিনাল রবার্ট ম্যাক এল-রয়ও বলেছিলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ‘নৈতিকভাবে বৈধ নয়’, কারণ এটি চার্চের ‘জাস্ট ওয়ার’ মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























