মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, যদি প্রণালীতে কোনো মাইন পেতে রাখা হয়ে থাকে, তবে তা দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। যদিও তিনি এও উল্লেখ করেছেন যে, ইরান ইতোমধ্যে মাইন বসিয়েছে এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নেই, তবে যদি বসানো হয়ে থাকে, তাহলে “অবিলম্বে সেগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে।”
ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের পরই এই সতর্কবার্তা এসেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরান হয়তো হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসাচ্ছে অথবা বসানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই মধ্যে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে যে, তারা হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের প্রায় ১৬টি মাইন পাতা জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী এখন যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাত্র ৩৪ কিলোমিটার প্রশস্ত এই সরু সামুদ্রিক পথের এক পাশ নিয়ন্ত্রণ করে ইরান। কুয়েত, ইরাক, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানির জন্য ট্যাংকারগুলোকে এই পথ দিয়েই যেতে হয়। উপসাগর থেকে বের হওয়ার জন্য এটিই তাদের একমাত্র সমুদ্রপথ, ফলে এই প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরানের উল্লেখযোগ্য কৌশলগত প্রভাব রয়েছে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র বারবার দাবি করছে যে তারা ইরানের নৌবাহিনীকে ধ্বংস করার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন—তেলবাহী জাহাজের জন্য হুমকি তৈরি করতে ইরানের প্রচলিত বড় যুদ্ধজাহাজের প্রয়োজন নেই। তারা ছোট সাবমেরিন, দ্রুতগতির নৌকা কিংবা অনুরূপ ছোট নৌযান ব্যবহার করেও ট্যাংকার চলাচল ব্যাহত করতে পারে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছিলেন যে এমন ধরনের হামলা ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। তবে পরে দেখা যায় তথ্যটি নিশ্চিত নয় এবং তিনি সেই পোস্টটি মুছে ফেলেন।
রিপোর্টারের নাম 






















