যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার ভোরে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যা ইরান-সংক্রান্ত অভিযানে মার্কিন বোমারু বিমান মোতায়েনের জন্য ব্যবহৃত হয়। গ্লুচেস্টারশায়ার ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের কর্মীরা কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ঘাঁটির ‘কমিসারি’ বা রসদ সরবরাহের দোকান থেকে কালো ধোঁয়া নির্গত হচ্ছে এবং আগুনের তীব্রতায় ভবনটির ছাদ ধসে পড়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের দরজা-জানালা বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে, এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি এবং রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) কোনো যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, গত মার্চ মাস থেকে ব্রিটিশ সরকার এই ঘাঁটিটি মার্কিন বিমান বাহিনীকে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবহারের অনুমতি দেয়। ইরানের বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘প্রতিরক্ষামূলক’ অভিযানে মার্কিন বোমারু বিমানগুলো এখান থেকে মোতায়েন করা হয়। এই ঘাঁটি ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোমারু বিমানগুলোর যাতায়াতের সময় প্রায় অর্ধেক কমে এসেছে, যা এর কৌশলগত গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে, গত শনিবার প্রায় ২০০ মানুষ এই ঘাঁটি ব্যবহারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারীরা ‘ইরানে কোনো যুদ্ধ নয়’ এবং ‘ব্রিটিশ ঘাঁটি থেকে মার্কিনদের বিদায় করো’ সম্বলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন। আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ইউরোপের দুটি ঘাঁটির মধ্যে একটি, যেখানে আমেরিকার দূরপাল্লার তিন ধরনের বোমারু বিমানই (বি-১ ল্যান্সার, বি-২ স্পিরিট এবং বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস) অবস্থান করতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৪ সালে নির্মিত এই ঘাঁটিটি দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন বাহিনীর বিশ্বস্ত একটি কৌশলগত অবস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
রিপোর্টারের নাম 





















