রাজনীতিকে কেবল ক্ষমতার লড়াই হিসেবে না দেখে আর্ত-মানবতার সেবা এবং গণমানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি মনে করেন, ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে এলে রাজনীতি প্রকৃত অর্থে জনকল্যাণে ব্যবহৃত হতে পারে।
শনিবার সকালে রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে একটি স্থানে জামায়াতে ইসলামী উত্তরা শাখা আয়োজিত ‘ইচ্ছেপূরণ’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান। এই কর্মসূচির আওতায় সমাজের সুবিধা বঞ্চিত ও অভাবী ২৫ জন মানুষকে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা করার সুযোগ করে দেওয়া হয়, যার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করে জামায়াতে ইসলামী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন সেখানকার আনন্দময় পরিবেশ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং মহান আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন। পরবর্তীতে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে কথা বলেন। এসময় তার সাথে উত্তরা পূর্ব অঞ্চলের পরিচালক জামাল উদ্দিন, সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলম, উত্তরা পূর্ব থানা আমির মাহফুজুর রহমান, উত্তরা ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মাহফুজার রহমান, তুরাগ মধ্য থানা নায়েবে আমির কামরুল হাসান এবং বদিউজ্জামাল বকুল উপস্থিত ছিলেন।
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, আল্লাহ মানুষকে কেবল আত্মকেন্দ্রিক জীবন যাপনের জন্য পাঠাননি, বরং পৃথিবীতে খেলাফতের দায়িত্ব পালন করার জন্য পাঠিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু দেশে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না থাকায় সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই তিনি মানুষের মুক্তির জন্য রাষ্ট্র ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
‘ইচ্ছেপূরণ’ কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ যাতে সমাজের মূল স্রোতের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে পারে, সেই লক্ষ্যে এই জনহিতকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আজ ২৫ জন সুবিধাভোগীকে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ঈদের বাজার করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই ইতিবাচক কর্মসূচি ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ঈদকে আনন্দময় করে তুলতে তিনি সকল রাজনৈতিক দল এবং সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) নতুন প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বিদায়ী প্রশাসক ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা রেখে যাওয়ার কথা বললেও নতুন প্রশাসন মাত্র ২৫ কোটি টাকার স্থিতির কথা জানাচ্ছে। এই বিষয়ে সরকারের জরুরি তদন্ত এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি। একটি আধুনিক ও সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ডিএনসিসি গড়তে অবিলম্বে নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির হাতে নগর প্রশাসনের দায়িত্ব হস্তান্তরের আহ্বান জানান তিনি।
রিপোর্টারের নাম 
























