ঢাকা ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডার কমে কি আসছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার দেশের হাতে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের কার্যত অফুরান ভান্ডার আছে। আর ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, যুক্তরাষ্ট্র যেমন ভাবছে, তাদের শত্রুকে প্রতিরোধ করার সক্ষমতা তার চেয়েও বেশি।

শুধু অস্ত্রের ভান্ডার আর সরবরাহের ওপরে এই সংঘাতের ফলাফল নির্ধারিত হবে না, তবে নিশ্চিতভাবেই অস্ত্রের সংখ্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক।

যেমন— অস্ত্র আর গোলাবারুদের সংখ্যার দিক থেকে রাশিয়া ইউক্রেনকে অনেক আগেই পেছনে ফেলে দিয়েছে। তবু যুদ্ধ চলছে।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের এবারের যুদ্ধ প্রথম থেকেই জোরালো মাত্রায় শুরু হয়েছে। দুই পক্ষই যত দ্রুত অস্ত্র ব্যবহার করছে, তত তাড়াতাড়ি অস্ত্র আবারও উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না।

তেল আবিবভিত্তিক ইনস্টিটিউট অব ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ বা আইএনএসএসের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরাইল ইতোমধ্যে ২ হাজারেরও বেশি হামলা চালিয়েছে। প্রতিটিতে একাধিক বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে।

আইএনএসএস বলছে, ইরান ৫৭১টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে আর ১৩৯১টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলো লক্ষ্যে পৌছনোর আগেই প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।

যুদ্ধ যদি দীর্ঘদিন ধরে চলে, তাহলে দুই পক্ষের জন্যই এই পর্যায়ের লড়াই চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

ইরানের অস্ত্র ভাণ্ডার:

পশ্চিমা কর্মকর্তারা বলছেন, তারা দেখতে পাচ্ছেন যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের হার যে কমে আসছে। যুদ্ধের প্রথম দিনে যেখানে শয়ে শয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছিল ইরান, এখন তা মাত্র কয়েক ডজনে এসে দাঁড়িয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের কাছে আনুমানিক দুই হাজারেরও বেশি স্বল্প-দূরত্বের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল।

কোনো সামরিক বাহিনীই তাদের হাতে নির্দিষ্টভাবে কত অস্ত্র আছে, সেই সংখ্যাটা প্রকাশ করে না। প্রতিপক্ষকে অন্ধকারে রাখার জন্যই এই তথ্য গোপনীয় রাখা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল ড্যান কেইন বুধবার বলেছেন যে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার হার প্রথম দিনের তুলনায় ৮৬ শতাংশ কমে গেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্ট-কম বলছে, মঙ্গলবার থেকে বুধবারের মধ্যেই সংখ্যাটা ২৩ শতাংশ কমেছে।

ধারণা করা হয়, ইরান যুদ্ধ শুরুর আগেই একমুখী আক্রমণ চালাতে সক্ষম শাহেদ ড্রোন হাজার হাজার সংখ্যায় উৎপাদন করেছে।

এই ড্রোনের প্রযুক্তি তারা রাশিয়ার কাছে রফতানিও করেছে। রাশিয়া এই শাহেদ ড্রোনগুলোর নিজস্ব একটি ভার্শন তৈরি করে ইউক্রেনের ওপরে বিধ্বংসী হামলা চালাচ্ছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও এটার নকল করেছে।

তবে কেইন বলছেন, ইরানের ড্রোন আকাশে ওড়ানোর সংখ্যাও যুদ্ধের প্রথম দিনের তুলনায় ৭৩ শতাংশ কমে গেছে। শুরুর দিকে যে উচ্চমাত্রায় হামলা চালাচ্ছিল ইরান, সেটা ধরে রাখতে এখন সম্ভবত পরিস্থিতি বুঝতে হচ্ছে তাদের।

আবার হামলার সংখ্যা দ্রুত কমে আসার একটি কারণ এটাও হতে পারে যে, তারা চেষ্টা করছে অস্ত্র মজুত করে রাখতে। তবে উৎপাদনের হার ধরে রাখাটা আরও কঠিন।

যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরাইলের যুদ্ধবিমান এখন ইরানের আকাশে আধিপত্য চালাচ্ছে। ইরানের বিমান-প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রায় পুরোটাই ধ্বংস হয়ে গেছে। কোনো কার্যকরী বিমান বাহিনীও দেশটিতে আর নেই।

সেন্ট-কম বলছে, যুদ্ধের পরবর্তী পর্যায়ে নজর দেওয়া হবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন উৎক্ষেপণের স্থাপনাগুলো, তাদের অস্ত্রের মজুতগুলো খুঁজে বের করা এবং দেশটির যে-সব কারখানায় এইসব অস্ত্র উৎপাদন করা হয়, সেগুলোকে ধ্বংস করার ওপরে।

এখন ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের পক্ষে সহজতর হবে। তবে তাদের সব অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস করা কঠিন হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাপ ও হুমকির মুখে আলোচনায় বসবে না ইরান: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডার কমে কি আসছে

আপডেট সময় : ১২:৩৭:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার দেশের হাতে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের কার্যত অফুরান ভান্ডার আছে। আর ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, যুক্তরাষ্ট্র যেমন ভাবছে, তাদের শত্রুকে প্রতিরোধ করার সক্ষমতা তার চেয়েও বেশি।

শুধু অস্ত্রের ভান্ডার আর সরবরাহের ওপরে এই সংঘাতের ফলাফল নির্ধারিত হবে না, তবে নিশ্চিতভাবেই অস্ত্রের সংখ্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক।

যেমন— অস্ত্র আর গোলাবারুদের সংখ্যার দিক থেকে রাশিয়া ইউক্রেনকে অনেক আগেই পেছনে ফেলে দিয়েছে। তবু যুদ্ধ চলছে।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের এবারের যুদ্ধ প্রথম থেকেই জোরালো মাত্রায় শুরু হয়েছে। দুই পক্ষই যত দ্রুত অস্ত্র ব্যবহার করছে, তত তাড়াতাড়ি অস্ত্র আবারও উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না।

তেল আবিবভিত্তিক ইনস্টিটিউট অব ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ বা আইএনএসএসের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরাইল ইতোমধ্যে ২ হাজারেরও বেশি হামলা চালিয়েছে। প্রতিটিতে একাধিক বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে।

আইএনএসএস বলছে, ইরান ৫৭১টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে আর ১৩৯১টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলো লক্ষ্যে পৌছনোর আগেই প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।

যুদ্ধ যদি দীর্ঘদিন ধরে চলে, তাহলে দুই পক্ষের জন্যই এই পর্যায়ের লড়াই চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

ইরানের অস্ত্র ভাণ্ডার:

পশ্চিমা কর্মকর্তারা বলছেন, তারা দেখতে পাচ্ছেন যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের হার যে কমে আসছে। যুদ্ধের প্রথম দিনে যেখানে শয়ে শয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছিল ইরান, এখন তা মাত্র কয়েক ডজনে এসে দাঁড়িয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের কাছে আনুমানিক দুই হাজারেরও বেশি স্বল্প-দূরত্বের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল।

কোনো সামরিক বাহিনীই তাদের হাতে নির্দিষ্টভাবে কত অস্ত্র আছে, সেই সংখ্যাটা প্রকাশ করে না। প্রতিপক্ষকে অন্ধকারে রাখার জন্যই এই তথ্য গোপনীয় রাখা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল ড্যান কেইন বুধবার বলেছেন যে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার হার প্রথম দিনের তুলনায় ৮৬ শতাংশ কমে গেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্ট-কম বলছে, মঙ্গলবার থেকে বুধবারের মধ্যেই সংখ্যাটা ২৩ শতাংশ কমেছে।

ধারণা করা হয়, ইরান যুদ্ধ শুরুর আগেই একমুখী আক্রমণ চালাতে সক্ষম শাহেদ ড্রোন হাজার হাজার সংখ্যায় উৎপাদন করেছে।

এই ড্রোনের প্রযুক্তি তারা রাশিয়ার কাছে রফতানিও করেছে। রাশিয়া এই শাহেদ ড্রোনগুলোর নিজস্ব একটি ভার্শন তৈরি করে ইউক্রেনের ওপরে বিধ্বংসী হামলা চালাচ্ছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও এটার নকল করেছে।

তবে কেইন বলছেন, ইরানের ড্রোন আকাশে ওড়ানোর সংখ্যাও যুদ্ধের প্রথম দিনের তুলনায় ৭৩ শতাংশ কমে গেছে। শুরুর দিকে যে উচ্চমাত্রায় হামলা চালাচ্ছিল ইরান, সেটা ধরে রাখতে এখন সম্ভবত পরিস্থিতি বুঝতে হচ্ছে তাদের।

আবার হামলার সংখ্যা দ্রুত কমে আসার একটি কারণ এটাও হতে পারে যে, তারা চেষ্টা করছে অস্ত্র মজুত করে রাখতে। তবে উৎপাদনের হার ধরে রাখাটা আরও কঠিন।

যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরাইলের যুদ্ধবিমান এখন ইরানের আকাশে আধিপত্য চালাচ্ছে। ইরানের বিমান-প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রায় পুরোটাই ধ্বংস হয়ে গেছে। কোনো কার্যকরী বিমান বাহিনীও দেশটিতে আর নেই।

সেন্ট-কম বলছে, যুদ্ধের পরবর্তী পর্যায়ে নজর দেওয়া হবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন উৎক্ষেপণের স্থাপনাগুলো, তাদের অস্ত্রের মজুতগুলো খুঁজে বের করা এবং দেশটির যে-সব কারখানায় এইসব অস্ত্র উৎপাদন করা হয়, সেগুলোকে ধ্বংস করার ওপরে।

এখন ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের পক্ষে সহজতর হবে। তবে তাদের সব অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস করা কঠিন হবে।