ঢাকা ০৬:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

কাতারের মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, দোহায় সর্বোচ্চ সতর্কতা

কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ‘আল-উদেইদ’ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো শহর। মূলত ইরান থেকে আসা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় এই বিস্ফোরণগুলো ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গত পাঁচ দিনের চলমান উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় এই ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও অন্যটি ঘাঁটির অত্যন্ত নিকটবর্তী এলাকায় আঘাত হানে। তবে এই হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো প্রাণহানি ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

এই হামলার পর কাতারের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে দোহাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোর চারপাশে নিরাপত্তা বলয় আরও জোরদার করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বর্তমানে কেবল কাতার নয়, বরং পুরো উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও তুলনামূলক দুর্বল লক্ষ্যবস্তুগুলোকে টার্গেট করার একটি ধারাবাহিক কৌশল গ্রহণ করেছে। তারা মনে করছেন, লক্ষ্যবস্তুতে শতভাগ সফল হতে না পারলেও ইরান নিয়মিত বিরতিতে হামলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে আগামী কয়েক দিন কাতারের ওপর এ ধরনের ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওদিকে এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতিসংঘের ভূমিকার কড়া সমালোচনা ইরানের: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নীরবতা ভাঙার আহ্বান

কাতারের মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, দোহায় সর্বোচ্চ সতর্কতা

আপডেট সময় : ১১:৪০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ‘আল-উদেইদ’ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো শহর। মূলত ইরান থেকে আসা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় এই বিস্ফোরণগুলো ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গত পাঁচ দিনের চলমান উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় এই ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও অন্যটি ঘাঁটির অত্যন্ত নিকটবর্তী এলাকায় আঘাত হানে। তবে এই হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো প্রাণহানি ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

এই হামলার পর কাতারের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে দোহাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোর চারপাশে নিরাপত্তা বলয় আরও জোরদার করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বর্তমানে কেবল কাতার নয়, বরং পুরো উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও তুলনামূলক দুর্বল লক্ষ্যবস্তুগুলোকে টার্গেট করার একটি ধারাবাহিক কৌশল গ্রহণ করেছে। তারা মনে করছেন, লক্ষ্যবস্তুতে শতভাগ সফল হতে না পারলেও ইরান নিয়মিত বিরতিতে হামলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে আগামী কয়েক দিন কাতারের ওপর এ ধরনের ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওদিকে এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।